সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৩

muktagacha news


মুক্তাগাছা নিউজ রিপোর্ট  : অনলাইন মুক্তাগাছা নিউজ প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল  প্রকাশিত হচ্ছে । এটা দেশ বিদেশে থাকা মুক্তাগাছাবাসীর জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ । মুক্তাগাছা থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি সকলের জন্য সুখের বার্তা । আমরাও পত্রিকার মঙ্গল কামনা করা হয়েছে  ।

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

নেত্রকোনায় রেল কর্মকর্তাকে ধর্ষনের অভিযোগে গণধোলাই


স্টাফ রিপোর্টার : নেত্রকোনা রেল স্টেশনের (আইডব্লিউ ) কর্মকর্তা নাজমুলকে নারী ধর্ষনের অভিযোগে গণধোলাই দিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা । অভিযোগে প্রকাশ দুঃশ্চরিত্র এই কর্মকর্তা ভূলিয়ে ভালিয়ে সহজ সরল নারীদৈর ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এ কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নেয়নি । এরই প্রেক্ষিতে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ভূক্তভোগী ও তাদের পরিবার পরিজন সুয্গো বুঝে ধর্ষনকালে গণ ধোলাই দেয় । সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে ।

কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

একটি হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে ওই মামলার দুজন সাক্ষীকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় আহত সাইফুল ইসলামকে (২৫) নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শুক্কুর আলীকে (৩০) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের রসুলপুর নদীরপাড় এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। বুধবার সাইফুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে জানান,রসুলপুর ছিলার বাজার থেকে টেলিভিশন দেখে শুক্কুর আলীকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে রসুলপুর গ্রামের আসাদুল্লাহ হত্যা মামলার আসামী মো. শামছু মিয়া, জাহের উদ্দিন, মতিউর রহমান, দানিছ মিয়াসহ কয়েকজন দুইদিক থেকে তাদের পথরোধ করে। তাদের হাতে নানা ধরণের অস্ত্র দেখে প্রাণ রক্ষায় তারা দৌঁড় দিলে হামলাকারীরা পেছন থেকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শুরু করে। তারা দুজন গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশ থেকে লোকজন বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গ্রামের লোকজন জানান, আসাদুল্লাহ হত্যা মামলার এই আসামিরা ঈদের কিছুদিন আগে জামিনে বেরিয়ে আসে। আসাদুল্লাহ হত্যা মামলার বাদি আ.লতিফ জানান, ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে তার ছেলেকে (আসাদুল্লাহ) কুপিয়ে হত্যা করে ওই হামলাকারীরা। এ ঘটনায় তিনি নান্দাইল মডেল থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নং ৩১ তারিখ ৩১/১০০১২)। ওই মামলায় সাইফুল ইসলাম ও শুক্কর আলী গুরুত্বপুর্ণ সাক্ষী। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহিদুল ইসলাম হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন আসামিদের জামিন বাতিলের জন্যে আদালতে আবেদন জানানো হবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীর হেলিকপ্টারে আগমন

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ভাগিনা নজরুল ইসলাম খান বাবুল ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে নিজ উপজেলা ভালুকায় আসেন। শনিবার বিকেলে ভালুকার ধলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার হেলিকপ্টার অবতরণ করে। এসময় হাজার হাজার উৎসুক জনতা তাকে দেখতে কলেজ মাঠে ভিড় জমায়। পরে বিকেলে নজরুল ইসলাম খান ভালুকা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে ঘোষণা দেন । এর আগে নজরুল ইসলাম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ধলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ মুজুরুল হক খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রোকেয়া বেগম, শারফুল ইসলাম ,বজলুল হক খান, মনিরুজ্জামান স্বপন প্রমুখ। উল্লেখ্য, আলহাজ নজরুল ইসলাম খান বাবুল একজন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। তিনি ভালুকা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মরহুম নুরুল ইসলাম খান সোনামিয়ার ছেলে।

পাট জাগে বিড়ম্বনা দেখা দেয়াসহ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষ কমেছে

বৃষ্টিপাতের অভাবে কাঁচা পাট জাগে (পানিতে পাট পচানো)সমস্যা দেখা দেয়ায় এবার এর চাষ করেননি। ফলে গতবারের তুলনায় এবার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কম জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। লাভজনক দাম পাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাটোরে পাটের আবাদ বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু গত বছর বৃষ্টির অভাবে পাট জাগে বিড়ম্বনা দেখা দেয়াসহ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষ কমেছে। জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি থাকায় চাষাবাদ শুরু হয় দেরিতে। তারপর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে কৃষককে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। জলাশয়ের খোঁজে দূরদূরন্তে পাট নিয়ে জাগ দিতে বাড়তি খরচ বহন করতে হয় তাদের। পরে জেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কিছু চাষী পাট জাগ দিয়ে সমস্যা মোকাবেলা করলেও অভ্যস্ত না থাকায় কৃষকের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি প্রক্রিয়াটি। ফলে বেশির ভাগ চাষী ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে পাট জাগ দেয়। এতে এক বিঘা জমির পাট জাগ দিতে বাড়তি খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। তার পরও পাটের রঙ আশানুরূপ না হওয়ায় লাভ হয়নি প্রান্তিক কৃষকদের। সদর থানার বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার চাষী জয়নাল মণ্ডল জানান, গত বছর বৃষ্টির কারণে পাট জাগে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টি করে স্বল্প পরিসরে পাট জাগ দেয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হয়। তাই সমস্যা এড়াতে গতবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করলেও এবার তিনি করেছেন তিন বিঘায়। কোনো রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আগামী জুলাই-আগস্টে কৃষকরা মাঠ থেকে পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেবেন। পাটের বীজ বপনের পর জাতভেদে ১০০-১২০ দিন পর পাট গাছ পরিপক্বতা লাভ করে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছর (জুলাই-জুন) জেলায় ৪ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৪৩ হাজার ২৭ বেল (প্রতি বেল ২০০ কেজি) পাট পাওয়া যায়। গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৯৩ বেল। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৪৯৮ হেক্টর জমি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬২ বেল পাট। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫৬ বেল। ২০১১-১২ অর্থবছর ২১ হাজার ৭৪ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৩ বেল, অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৪২ বেল পাট পাওয়া যায়। গত বছর নাটোরে ১৬ হাজার ৭৪৫ হেক্টরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বেড়ে ১৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে উন্নীত হয়। এতে গড় ফলন হয় ১১ দশমিক ৭৫ বেল। অর্থাৎ বিগত চার বছরে জেলায় পাট আবাদে জমির পরিমাণ, মোট উৎপাদন ও গড় ফলন বেড়েছে। কিন্তু গতবার বৈরী আবহাওয়ায় পাট জাগে সংকট দেখা দেয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৩৪৫ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এ বছর দেশী পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫৭ হেক্টরে থাকলেও ৩০০ ও তোষা ১৭ হাজার ৬১৬-এর বিপরীতে হয়েছে ১৬ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও জেলায় জেআরও ৫২৪ ইন্ডিয়া তোষা জাতের পাট চাষের পরিমাণই বেশি। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. রহমত উল্লাহ সরকার বলেন, কাগজ-কল, পারটেক্স শিল্পে পাটের ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া দেশী পাটকল সচলের উদ্যোগ গ্রহণসহ বেসরকারি মালিকানায় স্থাপনও করা হচ্ছে। ফলে ভালো বাজারদর পাওয়ায় প্রতি বছরই নাটোরে পাটের আবাদ বাড়লেও এবার কিছুটা কমেছে। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম পাট

মুক্তাগাছায় নতুন ইউনয়িন বাস্তবায়নরে দাবীতে বক্ষিোভ সমাবেশ

মুক্তাগাছা(ময়মনসংিহ) প্রতিনিধি: মুক্তাগাছা উপজলোর দুল্লা ইউনিয়নকে বিভিক্ত করে বিন্নাকুড়ি নামে নতুন ইউনিয়ন বাস্তবায়নের দাবীতে এলাকাবাসীর কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকালে ইউনিয়নের বিন্নাকুড়ি বাজার থেকে নতুন ইউনিয়ন বাস্তবায়নের দাবীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পুরো ইউনিয়ন প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বাস্তবায়ন কমিটির নেতা আব্দুল মালেক (টাইগার মালেক), ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী, নূরুন্নাহার, আলাল উদ্দিন, বাস্তবায়ন কমিটির নেতা এস্কান্দার আলী, ইব্রাহিম আলী, হযরত আলী,আলহাজ্ব ডা. জালাল উদ্দিন, লাল মাহমুদ, সাহেব আলী মাস্টার, আইউব আলী প্রমুখ। তিন জেলার সীমান্তবর্তী মুক্তাগাছা জেলার শালবন অধ্যুসিত ৪১ র্বগ কলিোমটাররে আয়তনরে দুল্লা ইউনয়িন এর মধ্যে ২০বর্গি কলিোমটিার নয়িে বন্নিাকুড়ি নামে নতুন ইউনয়িন গঠনরে দাবী জানয়িে আসছে এলাকার প্রায় ১০ হাজার জনগন । মুক্তাগাছার উপজলোর ১নং দুল্লা ইউনয়িনটি উপজলোর র্সব বৃহৎ ইউনয়িন । ইউনয়িনরে ৮৮১০টি বাড়রি মধ্যে ২৮৯২টি বাড়ি নয়িে প্রস্তাবতি বন্নিাকুড়ি ইউনয়িন। ৩৬০৫৪ জনসংখ্যা অধুষতি জনগনরে মধ্যে ১২০৩২ জন এই প্রস্তাবতি ইউনয়িনে । ভোটার সংখ্যা ২৩৮৮৬ জনরে মধ্যে বন্নিাকুড়তিে র্বতমানে প্রায় ১০হাজার ভোটার রয়ছে।ে তাছাড়া বন্নিাকুড়ি ইউনয়িনে ৯টি প্রাথমকি বদ্যিালয়, ৪টি মশিনারী প্রাইমারী স্কুল ৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ১ দাখিল মাদ্রাসা, ২টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এলাকায় ৩ হাজার ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক (গারো ) জনগোষ্টি বাস করে। নব গঠিত ইউনিয়নের বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউনিয়নের নক্্রাসহ যাবতিয় তথ্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু অধ্যাবদি ইউনিয়নটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ক্ষোভ পাহাড়ী জনগোষ্টি অধ্যুষিত এলাকাটি পৃথক না হওয়ায় উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার জনগন। তাদের দাবি বর্তমান সরকার এ ইউনিয়নটি বাস্তবায়ন করে এলাকার উন্নয়নে সহায়তা করবে। E-mail: livepress24@gmail.comপ্রধান সম্পাদক : সুভাষ সিংহ রায় সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২৮/৪, পূর্ব তেজতুরি বাজার, তৃতীয় তলা, কারওয়ান বাজার, (লা ভিন্সি হোটেলের পেছনে) ঢাকা- ১২১৫। হটলাইন- নিউজ : ০১১৯২ ০৪৩৮১০, সারাদেশ ডেস্ক : ০১১৯২ ০৪৩৮০৯, ফোন : পিএবিএক্স- ৮৮-০২-৯১০১৯৪৩--৪৪, ৯১৩৭০৭৮, ফ্যাক্স : +৮৮ ০২ ৯৩৩৩১৪৮ ইমেইল : infoabnews@gmail.com 2013 © Abahaman Bangla Media Limitedমুক্তাগাছা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বেহাল দশা মুক্তাগাছা প্রতিনিধিময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চলছে বেহাল দশা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ১৩ জন এমবিবিএস ডাক্তারসহ বিবিন্ন পদবির কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। মুক্তাগাছা হাসপাতালে ৭ জন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ২ জন ও ৪টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন করে ৪ জন এমবিবিএস ডাক্তার কাগজে-কলমে কর্মরত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ডাক্তারের কর্মস্থানে অনুপস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘি্নত হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত ২ জন ডাক্তার রয়েছেন যারা সপ্তাহে ১ দিন করে অফিসে এসে থাকেন বলে সূত্রে জানা যায়। শুধু সপ্তাহে বন্ধ্যাকরণ ক্যাম্পের দিন উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. নার্গিস মোর্শেদা মেডিকেল অফিসার এমবিবিএস, এফপিআই তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। সপ্তাহে ১ দিন ঢাকা থেকে এসে অফিস করে আবার চলে যান। ডা. মাহমুদা বেগম তিনিও ময়মনসিংহ অবস্থান করেন। তিনিও সপ্তাহে ১ দিন কর্মক্ষেত্রে এসে থাকেন। অন্যদিকে উপকেন্দ্রগুলোতে ১ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ১ জন মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ফার্মাসিস্ট ১ জন ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছেন। সাব-সেন্টারগুলোতে সপ্তাহে ৬ কর্মদিবসে মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ও ফার্মাসিস্টরা পালা করে (সিফটিং) প্রতি সপ্তাহে ২ দিন করে দায়িত্ব পালন করে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকা সূত্রে জানা যায়। বাকি দিনগুলোতে তারা প্রাইভেট প্রাকটিসে ব্যাস্ত থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ডাক্তার কর্মরত। অনেকেই সরকারি দায়িত্ব এড়িয়ে এবং গড়হাজির থেকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের নেশায় প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে মুক্তাগাছা হাসপাতালটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হলেও সরকারিভাবে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ না করায় পুরোপুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। তাছাড়া নতুন ভবনে বসার কোনো সুযোগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি না থাকায় পুরনো ভবনেই ৭ জন ডাক্তার গাদাগাদি করে বসে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ময়মনসিংহ- ১০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আ’লীগ নেতা এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের নেতৃত্বে ২শ’ কিলোমিটারব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচারের মাধ্যমে শোক দিবস পালন


সোহরাব উদ্দিন খান : গফরগাঁও উপজেলাব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবব রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২শ’ কিলোমিটার ব্যাপী প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়েছে।এ সময় আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, গরীব দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরনসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।এই ২শ’ কিলোমিটার ব্যাপী শোক দিবসে কমপক্ষে ২০টি স্পটে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জীবনাদর্শ সম্বন্ধে বক্তব্যদেন গফরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান, সদাহাস্যোজ্জল, আ’লীগের নিবেদিত প্রাণ, ঐ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খার ধারক, স্থানীয়দের একনিষ্ঠ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ একাধীক সংগঠনের কর্ণধার এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল । গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর চৌরাস্থা মোড়, বাড়া মোড়, পৌর সদরের জামতলা মোড়, মাইজহাটি, পাচবাঁগ বাজার, দত্তের বাজার মোড়, কান্দিপাড়া বাজার, মাইজবাড়ী বাজার মোড়, সতেরবাড়ী বাজার, পাগলা থানা সদর , টাঙ্গবর ইউনিয়নের পুলেরঘাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেন। নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাদুয়া গ্রামের মীরবাড়ী বাজারে সমাবেশে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভাষনদান কালে শোক দিবসের কর্মসুচীতে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে বলেন, এক নব উদ্যোমে আমরা আ’লীগের আদর্শকে লালন করতে চাই । প্রবীনদের মাঝেও সাড়া জাগে তার ভাষনে। প্রবীনদের মতে, এই নেতার উপস্থিতিতে গফরগাঁওয়ে আবার নব উদ্যোমে জেগে উঠেছে আ’লীগ । উল্লেখিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা- কর্মীরা তাকে তাদের জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সুখে দুঃখে সঙ্গে থাকার তাগিদদেন । নিবেদিত প্রাণ নেতা বলেন, আগেও ছিলাম, এখনও থাকব। গফরগাঁও আমার প্রাণ। এখানকার মাটি মানুষের সাথে আমার নাড়ীর সম্পর্ক। আপনাদের আপদে বিপদে আগেও ছিলাম, যতদিন বেঁচে আছি থাকব আপনাদের সাথেই । অত্রাঞ্চলের আবাল বৃদ্ধ বনিতা নারী পুরুষের তথা জন মানুষের দাবী তিনি সংসদ সদস্য হয়ে গফরগাঁও উপজেলায় জীবন্ত কিংবদন্তী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। শহরসহ প্রত্যঞ্চ অঞ্চলের উপজেলাব্যাপী শোক র‌্যালী ও নিগুয়ারীতে গীরব দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ কালে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে খাবার খেয়ে পরম তৃপ্তি পেলাম। সেখানকার তৃণমূল মানুষ তাকে দু‘হাত তুলে দোয়া করেন। এর মাঝে কবিতা আবৃত্তি করেন ঢাকা থেকে আসা কবি সাঈদ আজহার ও কবি রায়হানা। অনুষ্ঠানে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: ফরিদুজ্জামান ফরিদ বলেন, আ’লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে তিনি জানতে পেয়েছেন, এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর মত নেতাকেই এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহসহ সারা দেশে তিনি ছাত্রলীগের অগণিত নেতা কর্মী তৈরি করেছেন। যারা আজ দেশের স্বার্থে আ’লীগের হয়ে সারা দেশের উন্নয়নে যোগান দিচ্ছেন। আমরা চাই তার মত নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আমাদের পাশে এসে দাড়ান। বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী ময়মনসংহ সদর এর সভাপতি ও দত্তের বাজার আ‘লীগ নেতা সমাজ সেবক হোসেন আহমেদ শাহীন বলেন এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভাইকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি তার বাড়িতে বিশাল আকারের অনুষ্ঠান করবেন। জেলা যুবলীগ নেতা ও বারবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা এড. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর মত নেতাকেই সংসদ সদস্য হিসাবে দেখতে চান। উপরোল্লিখিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় আ’ লীগ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ময়মনসিংহস্থ গফরগাঁও সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা মানিক, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ সদর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক মনোনেশ দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মেধাবী ছাত্রনেতা ওয়াসিকুল আজাদ এর রসুলপুর ইউনিয়নস্থ কবরের পাশে জমায়েত, কালো ব্যাজ ধারন, শহীদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। পরে গফরগাঁও উপজেলায় কালোব্যাজ ধারন, কবিতা আবৃতি, বঙ্গবন্ধুর জীবনী মুলক ও দেশাত্বমুলক গান, শোক র‌্যালী ও গন ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রসুলপুর ইউনিয়ন শাখা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্মরনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের উপর নির্মিত “পলাশী থেকে ধানমন্ডি” চলচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত অনুষ্ঠানেও শ্লোগানে শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে “বাবুল তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে” । “বাবুল তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখ ভাই, জয় বাংলা -জয় বঙ্গবন্ধু” । - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4607#sthash.I8t3HViG.dpuf

ময়মনসিংহ- ১০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আ’লীগ নেতা এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের নেতৃত্বে ২শ’ কিলোমিটারব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচারের মাধ্যমে শোক দিবস পালন


সোহরাব উদ্দিন খান : গফরগাঁও উপজেলাব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবব রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২শ’ কিলোমিটার ব্যাপী প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়েছে।এ সময় আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, গরীব দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরনসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।এই ২শ’ কিলোমিটার ব্যাপী শোক দিবসে কমপক্ষে ২০টি স্পটে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জীবনাদর্শ সম্বন্ধে বক্তব্যদেন গফরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান, সদাহাস্যোজ্জল, আ’লীগের নিবেদিত প্রাণ, ঐ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খার ধারক, স্থানীয়দের একনিষ্ঠ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ একাধীক সংগঠনের কর্ণধার এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল । গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর চৌরাস্থা মোড়, বাড়া মোড়, পৌর সদরের জামতলা মোড়, মাইজহাটি, পাচবাঁগ বাজার, দত্তের বাজার মোড়, কান্দিপাড়া বাজার, মাইজবাড়ী বাজার মোড়, সতেরবাড়ী বাজার, পাগলা থানা সদর , টাঙ্গবর ইউনিয়নের পুলেরঘাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেন। নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাদুয়া গ্রামের মীরবাড়ী বাজারে সমাবেশে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভাষনদান কালে শোক দিবসের কর্মসুচীতে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে বলেন, এক নব উদ্যোমে আমরা আ’লীগের আদর্শকে লালন করতে চাই । প্রবীনদের মাঝেও সাড়া জাগে তার ভাষনে। প্রবীনদের মতে, এই নেতার উপস্থিতিতে গফরগাঁওয়ে আবার নব উদ্যোমে জেগে উঠেছে আ’লীগ । উল্লেখিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা- কর্মীরা তাকে তাদের জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সুখে দুঃখে সঙ্গে থাকার তাগিদদেন । নিবেদিত প্রাণ নেতা বলেন, আগেও ছিলাম, এখনও থাকব। গফরগাঁও আমার প্রাণ। এখানকার মাটি মানুষের সাথে আমার নাড়ীর সম্পর্ক। আপনাদের আপদে বিপদে আগেও ছিলাম, যতদিন বেঁচে আছি থাকব আপনাদের সাথেই । অত্রাঞ্চলের আবাল বৃদ্ধ বনিতা নারী পুরুষের তথা জন মানুষের দাবী তিনি সংসদ সদস্য হয়ে গফরগাঁও উপজেলায় জীবন্ত কিংবদন্তী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। শহরসহ প্রত্যঞ্চ অঞ্চলের উপজেলাব্যাপী শোক র‌্যালী ও নিগুয়ারীতে গীরব দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ কালে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে খাবার খেয়ে পরম তৃপ্তি পেলাম। সেখানকার তৃণমূল মানুষ তাকে দু‘হাত তুলে দোয়া করেন। এর মাঝে কবিতা আবৃত্তি করেন ঢাকা থেকে আসা কবি সাঈদ আজহার ও কবি রায়হানা। অনুষ্ঠানে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: ফরিদুজ্জামান ফরিদ বলেন, আ’লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে তিনি জানতে পেয়েছেন, এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর মত নেতাকেই এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহসহ সারা দেশে তিনি ছাত্রলীগের অগণিত নেতা কর্মী তৈরি করেছেন। যারা আজ দেশের স্বার্থে আ’লীগের হয়ে সারা দেশের উন্নয়নে যোগান দিচ্ছেন। আমরা চাই তার মত নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আমাদের পাশে এসে দাড়ান। বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী ময়মনসংহ সদর এর সভাপতি ও দত্তের বাজার আ‘লীগ নেতা সমাজ সেবক হোসেন আহমেদ শাহীন বলেন এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভাইকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি তার বাড়িতে বিশাল আকারের অনুষ্ঠান করবেন। জেলা যুবলীগ নেতা ও বারবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা এড. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর মত নেতাকেই সংসদ সদস্য হিসাবে দেখতে চান। উপরোল্লিখিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় আ’ লীগ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ময়মনসিংহস্থ গফরগাঁও সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা মানিক, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ সদর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক মনোনেশ দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মেধাবী ছাত্রনেতা ওয়াসিকুল আজাদ এর রসুলপুর ইউনিয়নস্থ কবরের পাশে জমায়েত, কালো ব্যাজ ধারন, শহীদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। পরে গফরগাঁও উপজেলায় কালোব্যাজ ধারন, কবিতা আবৃতি, বঙ্গবন্ধুর জীবনী মুলক ও দেশাত্বমুলক গান, শোক র‌্যালী ও গন ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রসুলপুর ইউনিয়ন শাখা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্মরনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের উপর নির্মিত “পলাশী থেকে ধানমন্ডি” চলচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত অনুষ্ঠানেও শ্লোগানে শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে “বাবুল তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে” । “বাবুল তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখ ভাই, জয় বাংলা -জয় বঙ্গবন্ধু” । - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4607#sthash.I8t3HViG.dpuf

বলাকা কমিউটার ট্রেনের জেনারেটর অপারেটর আবুল কাশেম ও রুবেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4614#sthash.VpoftsiG.dpuf

জাহীদুল ইসলাম জীবন : ময়মনসিংহে বলাকা কমিউটার ট্রেনের জেনারেটর অপারেটর আবুল কাশেম ও রুবেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগে প্রকাশ , এদের যাগসাজশে ট্রেনের টিকিট কালো বাজারে বিক্রি , ইঞ্জিনের বগিতে চড়িয়ে যাত্রীপ্রতি ৩/৪শ’ টাকা হারে আদায় এবং যাত্রীদের ট্রেনের ছাঁদে উঠিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে নিয়ে লাখ লাখ টাকা । এতে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেনের স্বাভাবিক কার্যক্রম । ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে ট্রেনের যাত্রা । jebon1সরেজমিনে , ময়মনসিংহ স্টেশনে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায় ট্রেনে উপচেপড়া যাএীদের ভীড় দেখা যায় । দেখা দেয় টিকেটের জন্য হাহাকার । কালোবাজারে সব টিকেট সয়লাব। উপরোল্লিখিতরা ছাড়াও ময়মনসিংহ স্টেশনে কিছু অসাধূ কর্মকর্তা – কর্মচারীরর কারনে ময়মনসিংহের রেলওয়ে জংশনের দুর্নাম এখন চরমে। কালোবাজারীদের কারণে যাত্রী সাধারণ এখন দিশেহারা আর নিরুপায় । যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতেই হকেব এ কারণে যাত্রী সাধারণ বাধ্য হয়েই কালোবাজারীদের নিকট থেকে উচ্চ মুল্যে টিকেট কিনে গন্ত্যবের উদ্দ্যেশে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাচ্ছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক যাত্রী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন ,আমরা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যাবো দুপুর ১২.৩০ মিনিট থেকে আন্তঃ নগর কাউন্টারে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর টিকেট মাস্টার বলেন টিকেট নেই । ১০ দিন আগেই সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। অপরদিকে সবগুলো ট্রেনই ময়মনসসিংহ স্টেশন ছেড়েছে বিলম্ব করে । বলাকা ট্রেন আশার কথা ২.৩০ মিঃ এ ট্রেন ছেড়েছে ময়মনসিংহ থেকে বিকাল ৫.৪৫ মিঃ। তিস্তা ট্রেন ছাড়ার কথা বিকাল ৫.২০ মিঃআর এ ট্রেন ছেড়েছে ময়মনসিংহ থেকে সন্ধা ৬.৪৫মিনিটে। অপর এক এক যাত্রী জানায়,বলাকা কমিউটার ট্রেন ময়মনসিংহ পৌঁছলে যাত্রীদের দর কশাকশি করে পাওয়ার মাস্টার মোঃআবুল কাশেম । জানা যায়, তার বিরূদ্ধে রেলওয়ের অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে । মোঃ আবুল কাশেম (৪০)পাওয়ার ঘাট দায়িত্বে অপর জন মোঃ রুবেল যাত্রীদের জিম্মী করে জনপ্রতি থেকে ৩০০ / ৪০০ টাকা আদায় করছে । বিনিময়ে তারা যাত্রীদের বসা ও দাড়ানোর স্থান করে দিচ্ছেন ট্রেনের ইঞ্জিন রুমে ও ছাঁদের উপরে । । প্রতিবেদক ঘটনার সত্যতা জানতে গেলে উপরোক্তরা বলেন , ময়মনসিংহ ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বড় অফিসারকে মাসোহারা দিয়ে যাত্রীদের উঠানামা করিয়ে থাকি । এবং এটা আমাদের ব্যাবসা । আপনারা সাংবাদিক যা পারেন লিখেন । এতে রেলওয়ে তথা আমাদের কিছু হবে না । ভুক্তভোগীরা এহেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহের এমপি , রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অদ্যক্ষ মতিউর রহমানের হস্তক্ষেপ কামণা করেন । - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4614#sthash.VpoftsiG.dpuf

ময়মনসিংহে খোলাবাজারে বিএডিসির বীজ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণমূল্যে


গোয়ালা অভি, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ভরা মৌসুমে বীজের অভাবে পাট চাষ করতে পারছেন না ময়মনসিংহের চাষীরা। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণমূল্যে বিএডিসির পাটবীজ বেচাকেনা হচ্ছে খোলাবাজারে। বাজারে নতুন বিএডিসি বীজের সাথে বিক্রি হচ্ছে গতবারের বিএডিসির পুরাতন বীজ। বীজের তীব্র সঙ্কটের কারণে চাষিরা পাটবীজ সংগ্রহ করতে হণ্যে হয়ে ছুটছেন উপজেলা ও জেলা শহরে। সঙ্কট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এবারো পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। সোনালী আঁশ পাটের দেশ হিসেবে পরিচিত ময়মনসিহে পাটের আবাদ দিনদিনই কমছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ কমেছে প্রায় চার হাজার হেক্টর। গত মৌসুমে ১০ হাজার ৩শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয় ৯ হাজার ৫শ’ ৭০ হেক্টর। এবার ১০ হাজার ৪ শ’ ৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে। কিন্তু গত বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষিরা পাটের বীজ সংগ্রহ করতে পারেনি বলে এখন চাষিদের ঘরে ঘরে পাট বীজের তীব্র সংকট চলছে। তাই বীজ বপনের ভরা মৌসুমে চাষিরা বিএডিসির দেশী পাটবীজ সংগ্রহ করতে হন্যে হয়ে ছুটছেন উপজেলা ও জেলা শহরের বিক্রেতাদের কাছে। আর এই সঙ্কটকে সামনে রেখে ডিলার ও ব্যবসায়িরা বিএডিসির পাটবীজ বিক্রি করছেন দ্বিগুন মুল্যে। বিএডিসি নতুন পাট বীজের সাথে বিক্রি করছে গত বছরের পুরাতন পাট বীজ। চড়াদামে বিএডিসির বীজ কিনে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ চাষিদের। ডিলারদের কাছ থেকে বিএডিসির দেশী পাটবীজ উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। চাহিদা অনুযায়ী বিএডিসি দেশী পাটবীজ সরবরাহ করতে পারেনি বলে সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে জানালেন ডিলাররা। বিএডিসির পাটবীজ খোলাবাজারে উচ্চমূল্যে বেচাকেনা হওয়ার কথা স্বীকার করে বিএডিসির ডিলার বললেন,পাট বীজ বিএডিসি থেকে কম দেয়ায় অনেকেই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে। সময়মতো বৃষ্টির পাশাপাশি বীজ না পেলে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক নারায়ন চন্দ্র বসাক। সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে খ্যাত ময়মনসিংহে পাট চাষের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বীজ সঙ্কট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা চাষিদের।

লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।

প্রচ্ছদ » পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য 28 Mar 2012 07:23:11 PM Wednesday BdST বনভূমি নষ্ট আর খাদ্যাভাব লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে মধুপুরের বন্যপ্রাণী ________________________________________ এসএম শহীদুল্লাহ, মধুপুর প্রতিনিধি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে যন্ত্রদানবের চাকায় দুজনেরই ভবলীলা সাঙ্গ, যান বাহনে পিষ্ট বাগডাসা, খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে বানর মধুপুর(টাঙ্গাইল): খাদ্যাভাব ও আবাসস্থল সংকটের দরুন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল মধুপুর গড়ের বন্যপ্রাণীরা কাঁচার প্রয়োজনে নিজেদের আবাস ছেড়ে লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বনাঞ্চলের আশপাশের গ্রামে এ মর্মান্তিক এসব ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বন বিভাগ বিলুপ্ত প্রায় এসব প্রাণী সংরক্ষণে কোনো ভূমিকা রাখছেনা বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার সাড়ে ৬২ হাজার একর বনভূমি মধুপুর বনাঞ্চল নামে পরিচিত। সরকার রাবার চাষের জন্য ১৯৮৭ সালে এ বনাঞ্চলের সাড়ে সাত হাজার একর বনভূমি বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থাকে হস্তান্তর করে। এছাড়া প্রায় এক হাজার একর বনভূমি নিয়ে তৈরি করা হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রসুলপুর ফায়ারিং রেঞ্জ। ‌রে সমান্তরালে মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাড়ে ১৭ হাজার একর বনাঞ্চলের প্রায় পুরোটাই বিরান ও বেদখল হয়ে গেছে। শুধুমাত্র মধুপুর উপজেলায় ১২ হাজার একর বনাঞ্চল কোনোভাবে টিকে রয়েছে। ওই ১২ হাজার একরের মধ্যে ৫ হাজার একর হলো আবার কৃত্রিম বন। বিদেশি প্রজাতির বৃক্ষে কমার্শিয়াল প্ল্যানটেশন করা এ কৃত্রিম বনের গাছপালার ফুল, ফল ও লতাপাতা পশুপাখির খাবার অনুপযোগী। এজন্য এ মনোকালচার বা একক বৃক্ষের বনে পশুপাখি বাসা বাঁধেনা, নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিতে পারে না। এমনকি নিবিভঘ্নে প্রজণন কার্যক্রমও ঘটাতে পারেনা। এ বাস্তবতায় জাতীয় সদর উদ্যান রেঞ্জ, দোখলা রেঞ্জ ও চাড়ালজানি বিট কোনোভাবে টিকে থাকা সাত হাজার একর বহুস্তর বিশিষ্ট প্রাকৃতিক জঙ্গলই হলো বন্যপ্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল। এ বনে এখনো হরিণ, বাগডাসা, বানর, হনুমান, বনমোরগ, খরগোশ ও কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি দেখা যায়। কিন্তু প্রাকৃতিক বনের চিরায়ত গাছপালা যেমন আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, সিধা, কাইকা, সিন্ধুরি, জয়না, পলাশসহ নানা প্রজাতির বড় গাছপালা পাচার হয়ে যাওয়ায় বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক খাবার, প্রজনন ও আশ্রয়স্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, পশুপাখির খাদ্য সঙ্কট নিরসনের জন্য ২০০২ সালে বন বিভাগ মধুপুর ন্যাশনাল পার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দোখলা ও লহুরিয়া বিটের ৫০০ একরে দেশি প্রজাতির ফলদ বাগান সৃজন করে। কিন্তু দুদফা অগ্নিকাণ্ড ও সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা নির্বিচারে গাছ কেটে ইট ভাটায় চালান দেয়ায় এসব ফলদ বাগান বিরান হয়ে গেছে। প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুকনো মৌসুমে ঝরাপাতার বন মধুপুরে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বনভূমিতে শুকনো পাতার পুরু আস্তরন পড়ে থাকায় এ বনে একবার আগুন লাগলে তা সহজে নেভে না। চলে ২/৩ দিন জুড়ে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে বিনষ্ট হয় সবুজ তৃণভূমি, ভেষজ বৃক্ষ, গুল্মলতাদি, বন্জ ফুলফল, গোটা ও কচি পাতা। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্যপ্রাণী ও পশুপাখি। খাদ্যাভাবে কাহিল এবং আবাসস্থল হারানো অসহায় প্রাণীগুলো চলে আসে লোকালয়ে। বনের বুক ভেদ করে চলে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ ব্যস্ততম হাইওয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্র দানবের চাকায় পিষ্ট হয় অসহায় এসব বন্য প্রাণী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ দু’মাসে পাঁচটি হনুমান, ৬টি বানর একটি বাগডাসা এবং তিনটি বন্য খরগোশ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। এ সংখ্যা প্রকুত হিসাবে আরও বেশি বলে জানিয়েছেন কাকরাইদ এলাকার মিঠুন সরকার। জাঙ্গালিয়া গ্রামের অসিত মাংসাং বাংলানিউজকে জানান, গাছ চোরের উপদ্রবে গজারি বন পাতলা হয়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা আর বনে নিরাপদে লুকিয়ে থাকতে পারে না। বিশেষ করে বনের মায়া হরিণ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসে। আর সুযোগ সন্ধানী মানুষ তাদের শিকার করে। পঁচিশ মাইল গ্রামের সুমি নার্সারির মালিক ওমর শরীফ জানান, বানর-হনুমান দল বেঁধে লোকালয়ে এসে আনারস ও কলা বাগানে হামলা চালায়। গাছের নারিকেল, পেঁপে, আম, আতাফল, মিষ্টি বরই, তুলার কাঁচা বোল, কচি কামরাঙ্গা, সজনে, লাউ, কুমড়া, শিমসহ নানা ফল ও সবজি তচনচ করে। বেড়িবাইদ গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, এরা কাঁচা আনারস খামচে তুলে গোড়ার সাদা পাতা খায়। একবার কোনো বাগানে হামলা চালালে বারংবার সে বাগানেই তারা দল বেঁধে ফিরে আসে এবং জমির সব ফল বিনষ্ট না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হয়না। এতে উত্যক্ত গৃহস্থরা লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করেও তাদের যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পান না। পরবর্তীতে দলবলে আরো ভারি হয়ে ফিরে আসে ক্ষুধার্ত প্রাণীগুলো। চোখের পলকে কচি আনারস কামড়ে ছিড়ে এবং চর্তুদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিনষ্ট করে। অপরদিকে, এদের উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য গৃহস্থরা বিষটোপ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ জানা গেছে। ফলে বিষাক্রান্ত হয়েও অনেক সময় মারা যায় এরা। বনাঞ্চলের কোনো কোনো অংশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কলা চাষ হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ও মহাজনরা এখান থেকে কেনা কলা ট্রাকে ভরে নিয়ে যায়। ট্রাকে কলা লোড করার পর বানর-হনুমানরা পাকা কলার লোভে সবার অগোচরে গাছ থেকে লাফিয়ে চড়ে বসে ট্রাকে। এ সূত্রে এসব কলাবাহী ট্রাকে করে নিজের অআন্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালান হয়ে যায় মধুপুর বনাঞ্চলের বানর-হনুমান। সম্প্রতি কলার ট্রাকে চালান হয়ে আসা তিন হনুমান নিয়ে বিপাকে পড়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার ৫০ গ্রামের মানুষ। মধুপুর জঙ্গল থেকে চলে আসা ওই তিন হনুমান আলমনগর, ঝাওয়াইল, হেমনগর, মির্জাপুর ও অর্জুনা ইউনিয়ন চষে বেড়ায়। পরে গ্রামবাসির পিটুনিতে তারা অসহায়ভাবে প্রাণ হারায়। খাবারের অভাবে মধুপুর বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণীদের জামালপুর সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ঘাটাইল, সখিপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ি এবং ভূঞাপুর উপজেলার গ্রামগঞ্জেও খাদ্যাভাবে পাড়ি জমাতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক রাজেশ চাকমা বাংলানিউজকে জানান, বনাঞ্চলের মাঝ বরাবর চলে যাওয়া মহাসড়কে যানবাহনে পিষ্ট হয়ে যাতে বন্য প্রাণীর প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য বনের উভয় দিকের প্রবেশ পথে রসুলপুর ও পঁচিশমাইল বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে। লোকালয়ে বন্যপ্রাণী নিধনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কেউ এধরনের অভিযোগ নিয়ে কখনো আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। gqgbwms‡n moK `yN©Ubvq 2 Rb wbnZ ÷vd wi‡cvU©vi : gqgbwmsn - dzjcyi mo‡Ki gqgbwmsn m`i Dc‡Rjvi eowejv bvgK ¯’v‡b e„n¯úwZevi iv‡Z moK `yN©Ubvq 2 Rb NUbv¯’‡j wbnZ n‡q‡Qb | wbnZiv †avevDov Dc‡Rjvi evwm›`v e‡j Rvbv †M‡Q | we¯—wiZ Avm‡Q

www.manoneshnews.com


www.manonesh das.com


www.crimekhobor.com


nandailnews


শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৩

দেখুন ময়মনসিংহ বার্তার সম্পাদককে


www.mymensinghbarta.com


mymensinghbarta.com


mymensingh

mymensinghbarta


mymensinghbarta a best news paper

www.mymensinghbarta.com


best newspaper

www.mymensinghkhobor.com


www.mymensinghkhobor.com

ময়মনসিংহ জেলা ১৭৮৭ সালের ১ মে তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরআদিনাম ছিল ‘নাসিরাবাদ’। আদি ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান একে একে সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলার অংশ হয়ে পড়ে। বর্তমান ময়মনসিংহ জেলারউত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোনা ওকিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।ময়মনসিংহ জেলা মোট ১২ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ময়মনসিংহ ‘শহর’ গঠিত হয়েছিল। এরপর ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাইপেরিয়ে, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে, প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এইময়মনসিংহ শহর আজও তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
বিশেষ করে বড় বড় পরগনাগুলোর মালিক জমিদারদেরেরা ইংরেজ কালেক্টরদের কাছে খাজনা দেয়ার জন্য ময়মনসিংহ শহরে এসে অনেকদিন অবস্থান করতে হত। তাদের মত জমিদাররা শহরে এসে অন্যের কাচারিতে উঠবে এটা কি হয়, তাই জমিদারদের শহরে বাড়ি বানানোর হিড়িক পড়ে গেল। এভাবেই ময়মনসিংহ শহর হয়ে উঠল জমিদারদের শহর। জমিদারদের নির্মান করা সে সব আবাস স্থলের স্থাপত্য শৈলী এবং কারুকার্য যে কারো দৃষ্টি আকর্ষন করে।
মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নিজ পুত্র শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নির্মান করেন দ্বিতল ভবন “শশীলজ”। ১৮৯৭ এর ভয়াবহ ভুমিকম্প দ্বিতল ভবনটি ভেঙ্গে যাবার পর বর্তমান একতলা দালান বাড়িটি নির্মান করা হয়। মহারাজার এ বাড়িটি নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই-গল্প-গাথা-কিংবদন্তীরও যেন শেষ নেই। বলা হয় বাড়িটিতে একটি সুড়ঙ্গ পথ ছিল, যে পথে নাকি ময়মনসিংহ শহর থেকে মুক্তাগাছা চলে যাওয়া যেত। দ্বিতল শশীলজ ধ্বংস হবার পর মহারাজা ময়মনসিংহ শহরে দ্বিতল পাকা বাড়ি নির্মান নিষিদ্ধ করেন বলেও জানা যায়। আমার ধারনা এটি ঠিক কেননা অন্য অনেক জেলায় অনেক জমিদার বাড়ি দ্বিতল দেখলেও গোটা ময়মনসিংহ শহরে কোন জমিদার বাড়ি দ্বিতল পাইনি।
ময়মনসিংহের রাজ বাড়ি বলতে আবাল বৃদ্ধবনিতা সবাই মহারাজা সূর্যকান্তের নয়নাভিরাম শিল্প শৈলী শশীলজ কটেজকেই জানে। গঙ্গাদাস গুহ রোডে জেলা পরিষদ ভবনের বিপরীতে এর বিশাল উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। প্রধান ফটকের সামনে দাড়িঁয়ে বাড়িটির দিকে তাকালে সবুজ গাছ গাছালির সমাবেশে সাদা পাড় মেরুন বাড়িটি অদ্ভুত সুন্দর নারী ভাষ্কর্যসহ যে কাউকে চমকে দেবার ক্ষমতা রাখে। বিশাল এ বাড়িটিতে আছে অসংখ্য দুর্লভ বৃক্ষের সমাবেশ। বয়সের ভারে একটি একটি করে গাছ ইদানিং হেলে পড়ছে। ১৯৫২ থেকে শশীলজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের একমাত্র মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষন কলেজ।
শশীলজ থেকে সামান্য দূরেই মহারাজের বাগানবাড়ি। আয়তন বিবেচনায় বাগান বাড়িটি বেশ কিছুটা বড়। ময়মনসিংহ শহরের উল্ল্যেখযোগ্য এক স্থাপত্য আলেকজান্ডার ক্যাসেল বা আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল এ বাগান বাড়িতে অবস্থিত। মহারাজা সূর্যকান্ত ময়মনসিংহ শহরের জুবলি উৎসব পালনের জন্য তৎকালীন ভারত সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ড পতœী সম্রাজ্ঞী আলেকজান্দ্রার নামে দ্বিতল লোহার তৈরী এই ভবন নির্মান করেন। অন্য এক মতে ময়মনসিংহের তৎকালীন ইংরেজ কালেক্টর আলেকজান্ডার আই সি এস এর নামে ১৮৮৯ তে ভবনটি মহারাজা সূর্যকান্ত নির্মান করেন। লালকোঠি নামে সাধারন্যে পরিচিত দ্বিতল ভবনটি অভ্র বা চুমকি ব্যবহারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত ছিল বলে জানা যায়। এটি বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষন মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ সহ পৃথিবীর অনেক খ্যাতিমান মানুষ এখানে আতিথ্য গ্রহন করেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ভাঙ্গা হয়েছে অসংখ্য ব্রোঞ্জ ও পাথরের ভাষ্কর্য যার কিছু ভাঙ্গা চুড়া নিদর্শন কালের সাক্ষী হিসাবে এখনো দাড়িয়ে আছে বাগান বাড়িতে।
ব্রম্মপুত্র নদের তীরে খান বাহাদুর ঈসমাইল হোসেন রোডের পাশে আকর্ষনীয় কারুকার্য খচিত চৈনিক নির্মান শিল্পীদের দক্ষ হাতের দ্বিতল কাষ্ট্র নির্মিত বাড়িটির নাম গৌরীপুর লজ। গৌরীপুরের জমিদারের শহরের বাসভবন এটি। ১৮৯৭ সালের ভুমিকম্পের পর দ্বিতল বাড়ি নির্মানের অনুমতি না থাকায় কাঠের বাড়িটি নির্মান করেন গৌরীপুরের জমিদার রাজেন্দ্র কিশোর। বর্তমানে বাড়িটি সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নারায়নডহের জমিদার মোহনী মোহন মজুমদার শহরের বাড়ি এটি। বর্তমান এএসপি ট্রাফিক এর অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এটি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার জমিদার বাড়ি তালজাঙ্গালাজ। সি কে ঘোষ রোডে অবস্থিত এ বাড়িটি বর্তমানে আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল কলেজ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বাড়িটি জমিদার রায় বাহাদুর জেমি গুহর বাড়ি বর্তমানে খামার বাড়ি হিসাবে পরিচিত। অবিভক্ত বাংলার কংগ্রেস সভাপতি সুসং দূর্গাপুরের জমিদার কুমুদ চন্দ্র সিংহ এর আবাসটি ছিল মহারাজা রোডে, যার নামে মহারাজা রোডের নামকরন হয়।
সাহেব কোয়ার্টার রোডের শেষপ্রান্তে পৌর পার্কেও পশ্চিমে ব্রম্মপুত্র নদের তীর ঘেষে এ বাড়িটি অবস্থিত। বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা বা জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন শিল্পাচার্যের ছবি দেখতে অসংখ্য দর্শনার্থীর ভীর হয় সেখানে। এটি মূলত অবিভক্ত বাংলার অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকারের একতলা বাড়ি পরবর্তীতে যা দ্বিতল করা হয়েছে।
গৌরীপুরের কালিপুর এষ্টেটের জমিদার রমনীকান্ত লাহিড়ীর শহরের বাসভবন এটি যেটি বর্তমানে সূর্যকান্ত হাসপাতাল বা এস কে হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যেসব জমিদার বাড়িগুলো ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে বা রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে অস্তিত্ব বিপন্ন এদের ছবি দিয়ে আর ছবির সংখ্যা বাড়ালাম না তবে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরছি।
১। গোলপুকুরের জমিদার কুমার উপেন্দ্র চৌধুরীর বাড়ি প্রায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।
২। আলাপসিংহ পরগনার বাসাবাড়ি এস্টেট এর জমিদার শিরীষ চন্দ্র চৌধুরীর বাসভবন কিছুদিন আগে ভেঙ্গে মার্কেট করা হয়েছে।
৩। গৌরীপুরের রামগোপালপুর এস্টেট এর জমিদার যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর বাসভবন বিপন্ন প্রায়।
৪। কালিবাড়ি রোডের নারায়নডহের জমিদার বাড়িটিও ধ্বংস প্রায়।
৫। ঈষান চক্রবর্তী রোডের টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির জমিদার এবং ঈষান চক্রবর্তীর নিজের বাড়িটির অবস্থাও ভাল না। মুক্তিযুদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের অফিস হিসাবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬। শিক্ষানুরাগী আঠার বাড়ি এষ্টেট এর জমিদার ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরীর বাসভবন বর্তমানে যার কোন অস্তিত্ব আর নেই।
৭। সি কে ঘোষ রোডের অমরাবতী নাট্যমন্দির (বর্তমানে ছায়াবনী সিনেমা হল) এর বিপরীতে যে জমিদার বাড়িটি দেখতে পাবেন এটি ছিল ত্রিশালের সেনবাড়ির জমিদার সুরেন্দ্র চন্দ্র সেন ও বাদল চন্দ্র সেনদের শহরের বাসভবন। তিনি ছিলেন ভাওয়াল রাজার রায়ত।
৮। কিশোরগঞ্জের মসুয়ার জমিদার হরি কিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িটি এখন কমিউনিটি সেন্টার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার পরস্পরা উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী, সুকুমার রায়, সত্যাজিৎ রায়।
৯। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দানবীর রায় বাহাদুর রনদা প্রসাদ সাহার বাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রায় যা শিশু একাডেমীর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১০। কিশোরগঞ্জের গাঙ্গুটিয়ার জমিদার ডি এন চক্রবর্তীর বাড়িটির কোন অস্তিত্ব আর এখন নেই।
১১। মাত্র কিছুদিন আগে চিরদিনের জন্য হাড়িয়ে গেল ত্রিশালের কালি হারীর জমিদার প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তীও বসত বাটি।
১২। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া আরেকটি জমিদার বাড়ি টাঙ্গাইলের বেলতার জমিদার অনাথবন্ধু গুহর বাড়ি যেটি ভেঙ্গে ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের জন্য বহুতল ভবন নির্মান করা হয়েছে।
জমিদারদের নগরী ময়মমনসিংহের বিপন্ন প্রায় জমিদার বাড়িগুলোকে রক্ষা করা যেমন জরুরী, একই সাথে জরুরী বেহাত হয়ে যাওয়া বাড়িগুলো ফিরিয়ে নেয়ার কার্যকর উদ্যোগ এবং অক্ষত বাড়িগুলো সংরক্ষন। ধ্বংস হতে বসা বিপিন পার্কটির বিষয়ে ময়মমনসিংহের পৌরসভা যেভাবে উদ্যেগ নিয়েছে এভাবে এ জমিদার বাড়িগুলো সংরক্ষনের জন্য যদি ব্যবস্থা নেয় তাহলে ইতিহাসের বিষয়ে অসচেতন জাতির কিছুটা হলেও উপকার হবে।
ময়মনসিংহের আনন্দ-অবকাশ:
ময়মনসিংহ শহরটি, ময়মনসিংহ জেলার প্রায়কেন্দ্রভাগে পুরাতন ব্রহ্মপূত্র নদের তীরে অবস্থিত। নদীর তীর জুড়েএখানে একটি শহর রক্ষাকারী বাঁধ রয়েছে, যার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়েউঠেছে ‘ ময়মনসিংহ পার্ক ’। জেলা সার্কিট হাউসের পাশে গড়ে ওঠা এই পার্কটি ‘সার্কিট হাউস পার্ক’ নামেও পরিচিত। এটি, ২১.৭৩ কি.মি. আয়তনের ময়মনসিংহ শহরের অধিবাসীদের মূল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।শহরবাসীর আনন্দ-অবকাশের প্রধান স্থান এই পার্ক। শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণপ্রকল্প চলাকালে এই পার্কটিকে আরও মনোরম করে গড়ে তোলা হয়েছে। পার্কেরসর্বত্রই রয়েছে সবুজের সমারোহ। পার্কের মূল রাস্তার দু-পাশ দিয়েই রয়েছেসারি সারি, ছোট- বড় অসংখ্য গাছ। তার ফাঁকে ফাঁকে আছে বসার জন্য সিমেন্ট আরকংক্রিটের তৈরি বেঞ্চ। মাঝে মাঝে আছে দল বেঁধে বসে আড্ডা দেয়ার উপযোগী ‘গোলঘর’। যেখানে বসে সুহৃদ’দের সাথে গল্প করতে করতে উপভোগ করতে পারবেনশান্ত – নিরুপদ্রব প্রকৃতিকে, দেখতে পারবেন হিমালয়দুহিতা ব্রহ্মপুত্র নদের অপরূপ সৌন্দর্য! এছাড়া, শিল্প-রসিক মানুষদের জন্য এখানে আছে ‘জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’। এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিচালিত একটিসংগ্রহশালা যেখানে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুলআবেদিনের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মসমূহ সংরক্ষিত আছে।
সব বয়সের মানুষের জন্যই এই পার্ক শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে একটুখানি হাঁফছেড়ে বাঁচার এক আশ্রয়স্থল। খুব ভোরে গেলে দেখতে পাবেন, অসংখ্য স্বাস্থ্যসচেতন শহরবাসী সেখানে এসেছেন বুক ভরে কিছু সতেজ বাতাস নেয়ার আশায়। আর, সার্কিট হাউসের বিশাল মাঠে পাবেন শহরের ক্রীড়ামোদীদের। বেলা বাড়ার সাথেসাথে পার্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের ভিড়বাড়তে থাকে। প্রকৃতির সাহচর্যে থেকে বন্ধুদের নিয়ে একটু প্রাণ খুলে গল্পকরার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা যে আর হয়না! ঐতিহ্যবাহী আনন্দমোহন কলেজেরসম্মান শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামিমা সুলতানার অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠলোসেটিই। তাঁর ভাষ্যে, “প্রকৃতির মাঝে থেকে বন্ধুদের নিয়ে গল্প করার এমনসুযোগ আর কোথায় পাবো বলুন?” এ তো গেল তারুণ্যের প্রাণোচ্ছ্বাস।মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণদের কাছেও এই পার্কের আবেদন ময়মনসিংহেরআনন্দ-অবকাশতেমনি দুর্নিবার। কথা হল বেড়াতে আসা এক ব্যবসায়ী মাহতাবুল হকবাবুর সাথে,তিনি স্ত্রী,৪ বছরের ছেলে আইমান ও ৭ বছরের মেয়ে নুহা’কে নিয়েবেড়াতে এসেছেন। তাঁর মতে, “এখানে এলে জীবনের সব জটিলতাকে কিছুক্ষণের জন্যহলেও ভুলে থাকা যায়। প্রাণভরে উপভোগ করা যায় শান্ত এক পৃথিবী।” আর, ছোট্ট আইমানের সরল স্বীকারোক্তি, “এখানে এলে আমি অনেক খেলতে পারি।”
বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে পার্কে নানা বয়সের মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।সবাই প্রিয়জনকে নিয়ে বিকেলের আলোতে ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে, প্রকৃতিরকোলে কিছুটা সময় কাটাতে এখানে চলে আসেন। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে পার্কেঅবস্থিত ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকানের ব্যস্ততা। খোঁজ নিয়ে জানাগেল, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজো প্রভৃতি সামাজিক উৎসবে বা বিশেষ দিনে এই পার্কসাজে নতুন সাজে। সেসময় এখানে মানুষের ঢল নামে। তখন শহরের আবালবৃদ্ধবনিতাসকলেই নিজেদের মাঝে আনন্দ ভাগ করে নিতে জড়ো হন এই পার্কে। সে নাকি সত্যিইএক প্রাণের মেলা! একদিন না হয় সময় করে ঘুরেই আসুন না ময়মনসিংহ শহরেরঅধিবাসীদের আনন্দ-অবকাশের মিলনস্থল এই পার্ক, অনুভব করতে পারবেন লক্ষপ্রাণের এক সমবেত উচ্ছ্বাস!
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3904#sthash.slgQEMRP.dpuf

৩৯টি পরগণার মধ্যে নামকরণের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ

স্টাফ রিপোর্টার :সে আজ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগের কথা। আসাম উপসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে মধুপুর-ভাওয়ালের বিশাল বনভূমির প্রান্তভাগে। লৌহিত্য নামের এক দুরন্ত নদীর জলরাশির সাথে পলি ভেসে আসছে সুদূর হিমালয় থেকে। পলি আসছে সুরমা-ধনু-মেঘনা-সোমেশ্বরী দিয়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বেলে-দোয়াশ-এঁটেল মাটির সংমিশ্রণে বৃহত্তর ময়মনসিংহের অপূর্ব ভূ-ভাগ।
বর্তমান ব্রহ্মপুত্রের আদি নাম-ই লৌহিত্য। এই নাম হতে পারে ইতিহাসের কোনো বিশেষ চিহ্নের জন্য। অথবা লাল পলি বহন করা বা লোহিত-রং মাটিতে প্রবাহিত হওয়া কিংবা গেরুয়া মাটির বনাঞ্চলে বাধা পেয়ে লৌহিত্য সাগর হয়ে ওঠার জন্য। এরপর এর নাম ব্রহ্মপুত্র হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বৈদিক যুগের সুস্পষ্ট আর্য প্রভাব। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী পরশুরামের কঠোর কুঠার ব্রহ্মকুণ্ডে অবগাহনেই হাত থেকে স্খলিত হয় বলে তিনি এই পুণ্য বারিধারাকে সমতলে প্রবাহিত করেন। অথবা ব্রহ্মা জনহিতার্থে তার পুত্রকে উৎসর্গ করেন বলে হয়তো এ নদের নাম ব্রহ্মপুত্র।
সুদীর্ঘ পাঁচ হাজার বছর পূর্বমুখী হয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্রের প্রায় দুই শ কিলোমিটার দীর্ঘ ধারা আর গড়ভূমিতে বাধা পেয়ে ঊর্বর পলিমাটিতে গড়ে তুলেছে আদি ময়মনসিংহকে। তবে উপর্যুপরি বন্যার পলি জমে আর আঠার শতকের শেষদিকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে এর গতিপথে ঘটল ব্যাপক পরিবর্তন। গঙ্গার তিনগুণ প্রায় দশ মাইল প্রশস্ত হয়ে এই নদ সোজা দক্ষিণে যমুনা খাত বেয়ে বইতে লাগলো, যা পাড়ি দিতে গুণতে হতো দশ কাহন কড়ি। আর এদিকে সেই পলির প্রাবল্যেই বর্তমানে আদি ব্রহ্মপুত্র মৃতপ্রায়।
তবে অতীতে এই পলির ঊর্বরতাই আকৃষ্ট করেছে ভাগ্যান্বেষীদের। জেগে ওঠা এই ব-দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছে নিগ্রোটোদ্রাবিড় রক্তমিশ্রিত অষ্ট্রিক-মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন সময়ে কামরূপ, পাটালীপুত্র বা পুণ্ড্রবর্ধনের অধীনে থেকে বিকশিত হয়েছে এর অষ্ট্রো-দ্রাবিড় মিশ্রিত আর্যভাষার একটি বিশেষ রূপাশ্রিত ভাষা। আর্য প্রভাবকে স্বীকার করে বহিরাগতদের সাথে মিলেমিশে ধর্মবোধ ও ভাষাগত ঐক্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বিচিত্র জনসমাজ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ নামে এক বিচিত্র জনপদ।
মূলত পশ্চিম ময়মনসিংহে ক্রমবর্ধমান ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে যে ব্যাপক অরাজকতার তাণ্ডব ক্রমশ অন্যান্য অঞ্চলেও সংক্রমিত হচ্ছিল তা প্রশমণের জন্যেই ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে ‘নাসিরাবাদ’ নামে এ জেলার পত্তন ঘটে। মিঃ ডব্লিউ রটন নিযুক্ত হন প্রথম কালেক্টর। তবে এরও আগে বেগুনবাড়ির কাছে বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহ প্রতিষ্ঠা করেন নাসিরাবাদ শহর যা গ্রাস করে করাল ব্রম্মপুত্র। ১৭৯১ সালে তাই সেহড়া মৌজায় পত্তন ঘটে জেলা সদরের। ১৮৬৯-এ পৌরসভাও প্রতিষ্ঠিত হয় নাসিরাবাদ নামেই। এরপর ধীরে ধীরে ময়মনসিংহ নামের প্রতিষ্ঠা ঘটে আর নাসিরাবাদ নামটি বিলুপ্ত হয়ে শুধু স্মৃতি হিসেবে টিঁকে থাকে কতিপয় প্রতিষ্ঠানের নামে।
তবে এ অঞ্চলের ৩৯টি পরগণার মধ্যে নামকরণের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্ভবত এটি বৃহৎ পরগণা এবং এর জমিদারদের অধিক রাজস্ব প্রদানের স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশাসক ও সিদ্ধপুরুষ মোমেন শাহের নামে মোমেনশাহী এবং তা থেকে কালক্রমে ময়মনসিংহ নামের উদ্ভব বলে যে ইতিহাস প্রচলিত তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বরং মমিনসাহী পরগণার ‘মমিন’ এবং সিংনছরৎওজিয়ালের ‘সিং’ মিলেই সৃষ্টি হয়েছে মমিনসিং এবং তা থেকেই পরবর্তীতে এসেছে ময়মনসিংহ নাম।
ক্রমাগত বিদ্রোহ ও আন্দোলনের ব্যাপকতায় প্রশাসনিক কারণে এরপর এ জেলায় স্থাপিত হয় অস্থায়ী সেনানিবাস, পুলিশ ফাঁড়ি বা থানা এবং ৪টি মহকুমা। জামালপুর ১৮৪৫-এ, কিশোরগঞ্জ ১৮৬০-এ, টাঙ্গাইল ১৮৬৯-এ ও ১৮৮২-এ নেত্রকোণা। কিন্তু এরপরেও একদিকে যেমন ঠগী-ডাকাত-লুটেরাদের অত্যাচার বাড়তে থাকে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শাসকশ্রেণীর মধ্যেও দুর্নীতি ও চরিত্রহীনতা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৭৯৩-এ প্রকাশ্যে মদ বিক্রির লাইসেন্স, ১৮০৬-এ কালেক্টর গ্রোসের তহবিল তছরুপ, ১৮১৬-এ আফিমের অনুপ্রবেশ সেইসাথে নীলকর ও তাদের দোসরদের অত্যাচার এবং জমিদারদের শোষণ মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে।
এছাড়া ১৭৯৭-এ আলু, ১৮০৬-এ নীল বা ১৮০৮-এ শণ চাষের আয়োজন একদিকে যেমন কৃষি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে অন্যদিকে বাজিতপুরের মসলিন ও কিশোরগঞ্জের তজ্জাব বস্ত্রের মতো কুটির শিল্পও ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। যার ফলে ১৭৮৭-এ ডাক, ১৭৯১-এ চিকিৎসা, ১৮০০-এ নতুন মুদ্রা, ১৮০৬-এ রাস্তাঘাট, ১৮১৫-এ মুদ্রিত পুস্তক, ১৮৪৬-এ ইংরেজী স্কুল বা ১৮৫৩-এ সরকারী জিলা স্কুল স্থাপনেও সাধারণের তেমন কোন উন্নতি ঘটে নি। বরং দৃশ্যমান সুবিধাভোগের দ্বার উন্মুক্ত হয় মুষ্টিমেয় শাসকশ্রেণীর।
এরপরও ১৮৫৮-এর স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে প্রথমে পৌরসভা, ১৮৮৭-এ জেলা বোর্ড গঠন ও পরে মহকুমা সৃষ্টির পাশাপাশি ১৮৬৪-এ উচ্চশ্রেণীর মর্যাদায় অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রথা, দেশীয় শাসক নিয়োগ, ১৮৭৭ থেকে জমিদার গংকে বিভিন্ন রাজকীয় উপাধি প্রদানের পালাও শুরু হয়। সেইসাথে ১৮৮০-এ মানি অর্ডার, ১৮৮১-এ প্রথম আদমশুমারী, ১৮৮৩-এ টেলিগ্রাফ, ১৮৮৬ ও ১৮৯৯-এ রেলপথ, ১৮৮৯-এ সূর্যকান্ত লাইব্রেরী, ১৮৯৩-এ রাজরাজেশ্বরী জলকল ইত্যাদি যুক্ত হয়ে উচ্চ-মধ্যবিত্তের নাগরিক সুবিধাই শুধু বৃদ্ধি পায়। সর্বসাধারণ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই ডুবে যেতে থাকে।
তবু আশার আলো ছড়ায় ১৮৬৫-এর ‘লিটারেচার সভা’, ‘বিদ্যোন্নতি সাধিনী’ ও ‘সৌরভ’ মাসিকপত্র বা ১৮৭৭-এর সারস্বত সমিতি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০০-এ মন্মথ কলেজ ও ১৯০১-এ সিটি কলেজ। ফলে শিক্ষাদীক্ষার সাথে দেশীয় কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারের পথ হয় উন্মুক্ত। পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ও খ্রিষ্টান মিশনারীদের তৎপরতায় অভ্যুদয় ঘটলো ব্রাহ্ম ধর্ম ও আহমদীয়া সম্প্রদায়ের। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল ‘হিন্দু ধর্মজ্ঞান প্রদায়িনী সভা’ ও ‘আঞ্জুমানে ইসলামিয়া সমিতি’। ‘শ্রী’ এর বদলে ‘মোহাম্মদ’ লেখার রীতি চালু হওয়ার সাথে সাথে হানাফী-মোহাম্মদী ও সুন্নী-কাদিয়ানী কোন্দলও দেখা দিল।
এই ধর্মীয় অভিঘাতেই নানকার, ভাওয়ালী, টঙ্ক, তেভাগা, খড় প্রভৃতি আন্দোলন যথাযথ প্রসার লাভ করতে পারে নি। ম্লান হয়ে গেছে ঝলসে ওঠা ঈশাখাঁর তরবারি বা বীরাঙ্গনা সখিনার বীরত্ব। আর সাধারণ জনের ভাগ্যেরও তেমন পরিবর্তন ঘটে নি। তবু নিখিল ভারত কৃষাণ সম্মিলন, প্রজা সমিতি বা ঋণসালিশী বোর্ডের জন্ম সাময়িক আশার আলো ছড়ায়। কিন্তু কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ সাম্প্রদায়িক বিভক্তিকেই লালন করতে থাকে। পরবর্তীতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর নির্বাচন, ঊনসত্তুরের গণ অভ্যুত্থান ও একাত্তুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম সমস্ত ভেদবুদ্ধিকে দূর করে গড়ে তোলে স্বাধীন ও সমৃদ্ধ জনপদ ময়মনসিংহ। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3691#sthash.yE79Ddo6.dpuf
স্টাফ রিপোর্টার :সে আজ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগের কথা। আসাম উপসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে মধুপুর-ভাওয়ালের বিশাল বনভূমির প্রান্তভাগে। লৌহিত্য নামের এক দুরন্ত নদীর জলরাশির সাথে পলি ভেসে আসছে সুদূর হিমালয় থেকে। পলি আসছে সুরমা-ধনু-মেঘনা-সোমেশ্বরী দিয়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বেলে-দোয়াশ-এঁটেল মাটির সংমিশ্রণে বৃহত্তর ময়মনসিংহের অপূর্ব ভূ-ভাগ।
বর্তমান ব্রহ্মপুত্রের আদি নাম-ই লৌহিত্য। এই নাম হতে পারে ইতিহাসের কোনো বিশেষ চিহ্নের জন্য। অথবা লাল পলি বহন করা বা লোহিত-রং মাটিতে প্রবাহিত হওয়া কিংবা গেরুয়া মাটির বনাঞ্চলে বাধা পেয়ে লৌহিত্য সাগর হয়ে ওঠার জন্য। এরপর এর নাম ব্রহ্মপুত্র হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বৈদিক যুগের সুস্পষ্ট আর্য প্রভাব। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী পরশুরামের কঠোর কুঠার ব্রহ্মকুণ্ডে অবগাহনেই হাত থেকে স্খলিত হয় বলে তিনি এই পুণ্য বারিধারাকে সমতলে প্রবাহিত করেন। অথবা ব্রহ্মা জনহিতার্থে তার পুত্রকে উৎসর্গ করেন বলে হয়তো এ নদের নাম ব্রহ্মপুত্র।
সুদীর্ঘ পাঁচ হাজার বছর পূর্বমুখী হয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্রের প্রায় দুই শ কিলোমিটার দীর্ঘ ধারা আর গড়ভূমিতে বাধা পেয়ে ঊর্বর পলিমাটিতে গড়ে তুলেছে আদি ময়মনসিংহকে। তবে উপর্যুপরি বন্যার পলি জমে আর আঠার শতকের শেষদিকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে এর গতিপথে ঘটল ব্যাপক পরিবর্তন। গঙ্গার তিনগুণ প্রায় দশ মাইল প্রশস্ত হয়ে এই নদ সোজা দক্ষিণে যমুনা খাত বেয়ে বইতে লাগলো, যা পাড়ি দিতে গুণতে হতো দশ কাহন কড়ি। আর এদিকে সেই পলির প্রাবল্যেই বর্তমানে আদি ব্রহ্মপুত্র মৃতপ্রায়।
তবে অতীতে এই পলির ঊর্বরতাই আকৃষ্ট করেছে ভাগ্যান্বেষীদের। জেগে ওঠা এই ব-দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছে নিগ্রোটোদ্রাবিড় রক্তমিশ্রিত অষ্ট্রিক-মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন সময়ে কামরূপ, পাটালীপুত্র বা পুণ্ড্রবর্ধনের অধীনে থেকে বিকশিত হয়েছে এর অষ্ট্রো-দ্রাবিড় মিশ্রিত আর্যভাষার একটি বিশেষ রূপাশ্রিত ভাষা। আর্য প্রভাবকে স্বীকার করে বহিরাগতদের সাথে মিলেমিশে ধর্মবোধ ও ভাষাগত ঐক্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বিচিত্র জনসমাজ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ নামে এক বিচিত্র জনপদ।
মূলত পশ্চিম ময়মনসিংহে ক্রমবর্ধমান ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে যে ব্যাপক অরাজকতার তাণ্ডব ক্রমশ অন্যান্য অঞ্চলেও সংক্রমিত হচ্ছিল তা প্রশমণের জন্যেই ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে ‘নাসিরাবাদ’ নামে এ জেলার পত্তন ঘটে। মিঃ ডব্লিউ রটন নিযুক্ত হন প্রথম কালেক্টর। তবে এরও আগে বেগুনবাড়ির কাছে বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহ প্রতিষ্ঠা করেন নাসিরাবাদ শহর যা গ্রাস করে করাল ব্রম্মপুত্র। ১৭৯১ সালে তাই সেহড়া মৌজায় পত্তন ঘটে জেলা সদরের। ১৮৬৯-এ পৌরসভাও প্রতিষ্ঠিত হয় নাসিরাবাদ নামেই। এরপর ধীরে ধীরে ময়মনসিংহ নামের প্রতিষ্ঠা ঘটে আর নাসিরাবাদ নামটি বিলুপ্ত হয়ে শুধু স্মৃতি হিসেবে টিঁকে থাকে কতিপয় প্রতিষ্ঠানের নামে।
তবে এ অঞ্চলের ৩৯টি পরগণার মধ্যে নামকরণের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্ভবত এটি বৃহৎ পরগণা এবং এর জমিদারদের অধিক রাজস্ব প্রদানের স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশাসক ও সিদ্ধপুরুষ মোমেন শাহের নামে মোমেনশাহী এবং তা থেকে কালক্রমে ময়মনসিংহ নামের উদ্ভব বলে যে ইতিহাস প্রচলিত তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বরং মমিনসাহী পরগণার ‘মমিন’ এবং সিংনছরৎওজিয়ালের ‘সিং’ মিলেই সৃষ্টি হয়েছে মমিনসিং এবং তা থেকেই পরবর্তীতে এসেছে ময়মনসিংহ নাম।
ক্রমাগত বিদ্রোহ ও আন্দোলনের ব্যাপকতায় প্রশাসনিক কারণে এরপর এ জেলায় স্থাপিত হয় অস্থায়ী সেনানিবাস, পুলিশ ফাঁড়ি বা থানা এবং ৪টি মহকুমা। জামালপুর ১৮৪৫-এ, কিশোরগঞ্জ ১৮৬০-এ, টাঙ্গাইল ১৮৬৯-এ ও ১৮৮২-এ নেত্রকোণা। কিন্তু এরপরেও একদিকে যেমন ঠগী-ডাকাত-লুটেরাদের অত্যাচার বাড়তে থাকে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শাসকশ্রেণীর মধ্যেও দুর্নীতি ও চরিত্রহীনতা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৭৯৩-এ প্রকাশ্যে মদ বিক্রির লাইসেন্স, ১৮০৬-এ কালেক্টর গ্রোসের তহবিল তছরুপ, ১৮১৬-এ আফিমের অনুপ্রবেশ সেইসাথে নীলকর ও তাদের দোসরদের অত্যাচার এবং জমিদারদের শোষণ মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে।
এছাড়া ১৭৯৭-এ আলু, ১৮০৬-এ নীল বা ১৮০৮-এ শণ চাষের আয়োজন একদিকে যেমন কৃষি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে অন্যদিকে বাজিতপুরের মসলিন ও কিশোরগঞ্জের তজ্জাব বস্ত্রের মতো কুটির শিল্পও ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। যার ফলে ১৭৮৭-এ ডাক, ১৭৯১-এ চিকিৎসা, ১৮০০-এ নতুন মুদ্রা, ১৮০৬-এ রাস্তাঘাট, ১৮১৫-এ মুদ্রিত পুস্তক, ১৮৪৬-এ ইংরেজী স্কুল বা ১৮৫৩-এ সরকারী জিলা স্কুল স্থাপনেও সাধারণের তেমন কোন উন্নতি ঘটে নি। বরং দৃশ্যমান সুবিধাভোগের দ্বার উন্মুক্ত হয় মুষ্টিমেয় শাসকশ্রেণীর।
এরপরও ১৮৫৮-এর স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে প্রথমে পৌরসভা, ১৮৮৭-এ জেলা বোর্ড গঠন ও পরে মহকুমা সৃষ্টির পাশাপাশি ১৮৬৪-এ উচ্চশ্রেণীর মর্যাদায় অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রথা, দেশীয় শাসক নিয়োগ, ১৮৭৭ থেকে জমিদার গংকে বিভিন্ন রাজকীয় উপাধি প্রদানের পালাও শুরু হয়। সেইসাথে ১৮৮০-এ মানি অর্ডার, ১৮৮১-এ প্রথম আদমশুমারী, ১৮৮৩-এ টেলিগ্রাফ, ১৮৮৬ ও ১৮৯৯-এ রেলপথ, ১৮৮৯-এ সূর্যকান্ত লাইব্রেরী, ১৮৯৩-এ রাজরাজেশ্বরী জলকল ইত্যাদি যুক্ত হয়ে উচ্চ-মধ্যবিত্তের নাগরিক সুবিধাই শুধু বৃদ্ধি পায়। সর্বসাধারণ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই ডুবে যেতে থাকে।
তবু আশার আলো ছড়ায় ১৮৬৫-এর ‘লিটারেচার সভা’, ‘বিদ্যোন্নতি সাধিনী’ ও ‘সৌরভ’ মাসিকপত্র বা ১৮৭৭-এর সারস্বত সমিতি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০০-এ মন্মথ কলেজ ও ১৯০১-এ সিটি কলেজ। ফলে শিক্ষাদীক্ষার সাথে দেশীয় কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারের পথ হয় উন্মুক্ত। পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ও খ্রিষ্টান মিশনারীদের তৎপরতায় অভ্যুদয় ঘটলো ব্রাহ্ম ধর্ম ও আহমদীয়া সম্প্রদায়ের। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল ‘হিন্দু ধর্মজ্ঞান প্রদায়িনী সভা’ ও ‘আঞ্জুমানে ইসলামিয়া সমিতি’। ‘শ্রী’ এর বদলে ‘মোহাম্মদ’ লেখার রীতি চালু হওয়ার সাথে সাথে হানাফী-মোহাম্মদী ও সুন্নী-কাদিয়ানী কোন্দলও দেখা দিল।
এই ধর্মীয় অভিঘাতেই নানকার, ভাওয়ালী, টঙ্ক, তেভাগা, খড় প্রভৃতি আন্দোলন যথাযথ প্রসার লাভ করতে পারে নি। ম্লান হয়ে গেছে ঝলসে ওঠা ঈশাখাঁর তরবারি বা বীরাঙ্গনা সখিনার বীরত্ব। আর সাধারণ জনের ভাগ্যেরও তেমন পরিবর্তন ঘটে নি। তবু নিখিল ভারত কৃষাণ সম্মিলন, প্রজা সমিতি বা ঋণসালিশী বোর্ডের জন্ম সাময়িক আশার আলো ছড়ায়। কিন্তু কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ সাম্প্রদায়িক বিভক্তিকেই লালন করতে থাকে। পরবর্তীতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর নির্বাচন, ঊনসত্তুরের গণ অভ্যুত্থান ও একাত্তুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম সমস্ত ভেদবুদ্ধিকে দূর করে গড়ে তোলে স্বাধীন ও সমৃদ্ধ জনপদ ময়মনসিংহ। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3691#sthash.yE79Ddo6.dpuf

ময়মনসিংহের ইতিহাস

ময়মনসিংহ মধ্য বাংলাদেশে অবস্থিত একটি বিস্তৃত অঞ্চল। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ অবধি ময়মনসিংহ জেলা ছিল বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা। অন্যদিকে ময়মনসিংহ শহরটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলা সাহিত্যের অনেক প্রাচীন পুস্তকেও এই শহরের নামোল্লেখ দেখা যায়। ময়মনসিংহের ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ হচ্ছে মৈমনসিংহ গীতিকা যা প্রাচীন পুঁথি ও লোকগাঁথার সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বলতে এখানে সমগ্র বৃহত্তর ময়মনসিংহ (বর্তমান ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলা) বোঝানো হয়েছে। এখানে প্রাচীনকাল বিবেচনায় নিলে এই অঞ্চলগুলোকে পৃথকভাবে দেখার অবকাশ নেই।
পরিচ্ছেদসমূহ
১ প্রাচীন কাল
২ বৌদ্ধ যুগ
৩ হিন্দু শাসনামল
৩.১ পাল বংশ
৩.২ সেন বংশ
৪ কামরুপের ইতিহাস
৪.১ প্রাচীন কাল থেকে ভূঞা শাসন
৫ আদিবাসী গারো জাতির শাসন উৎখাত
৫.১ ভাটী রাজ্য
৬ প্রাথমিক মুসলিম শাসন
৬.১ উজবেকের আক্রমণ ও তুগরল খাঁ’র বিদ্রোহ
৬.২ বাংলাদেশে স্বাধীন মুসলিম শাসন
৭ হুসেন শাহী বংশের রাজত্বকাল
৮ তথ্যসূত্র এবং পাদটীকা
৯ আরও দেখুন
প্রাচীন কাল
প্রাচীনকাল বলতে এখানে বৈদিক কাল (খ্রি. পূ্. ২৫০০ অব্দ) থেকে শুরু করে মহাভারতের কাল হয়ে কালীদাসের সময় পর্যন্ত ইতিহাসকে বোঝানো হয়েছে। আর্যরা বহু পূর্বে ভারতবর্ষে আগমন করে অনার্যদের বিতারিত করে। তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় পশ্চিমে সুলেমান গিরিপুঞ্জ থেকে পূর্বে গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থল, উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে সিন্ধু নদ পর্যন্ত। বেদে বঙ্গদেশের কোন উল্লেখ নেই, সুতরাং এটি তখন অরণ্যসংকুল এবং অনার্যদের আবাস ছিল অথবা পূর্বাংশের এই ভূমিটি তখনও বঙ্গোপসাগরে নিমজ্জিত ছিল। এরপর আসে সংহিতার কাল। মনুসংহিতায়ও বঙ্গদেশের উল্লেখ নেই। তবে অনুমানের উপর বলা হয় এই অঞ্চল তখন আর্য্যাবর্ত্তের মধ্যে ছিল তবে এখানে আর্য্যধর্ম প্রসার লাভ করেনি। তাই এসময়ে বর্তমান ময়মনসিংহ অঞ্চলের কোন অস্তিত্বের কথা জানা যায়না।
এরপর আসে রামায়ণ এবং মহাভারতের কাল। রামায়ণ ও মহাভারতে বঙ্গের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। রামায়ণে অঙ্গ, বঙ্গ, মগধ, কাশী, কোশল প্রভৃতি অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে; তবে এদের অবস্থানের কোন স্পষ্ট ধারণা নেই। মহাভারত অধ্যয়ন করলে অবস্থানের যে ধারণা পাওয়া যায় তা এরকম: প্রথমত, ভারতবর্ষের পূর্ব প্রান্তে বঙ্গদেশ নামে একটি রাজ্য ছিল; দ্বিতীয়ত, সেই দেশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল; তৃতীয়ত, তখনকার সময়েও তাম্রলিপ্তের (বর্তমান তমলুক) অস্তিত্ব ছিল এবং চতুর্থত, বঙ্গদেশ অতিক্রম করে পূর্বদিকে লৌহিত্য প্রদেশ এবং তার পূর্বে লৌহিত্য সাগর বিদ্যমান ছিল। এছাড়া বঙ্গের উত্তর সীমা হিসেবে এখানে প্রাগ্‌জ্যোতিষ দেশের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই আলোচনায় ব্রহ্মপুতের অবস্থান জানা যায়না; আর ময়মনসিংহ অঞ্চল চিহ্নিতকরণের জন্য ইটিই জানা প্রয়োজন। মহাভারতের বিস্তৃত আলোচনায় জানা যায় ব্রহ্মপুত্র নদ তখন লৌহিত্য সাগর নামে পরিচিত ছিল যা ব্রহ্মকুণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে হিমালয়ের পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বিধায় আর্য্যবর্ত্তের মধ্য দিয়ে যায়নি। পরশুরাম প্রতিষ্ঠিত লৌহিত্য তীর্থ বলতে এই লৌহিত্য সাগরকেই বুঝানো হয়েছে। মূলত ব্রহ্মপুত্র নদী সাগরের সাথে মিলিত হয়েছে বলেই এদের সঙ্গমস্থলের নাম সাগর হয়েছে।
এছাড়া তাম্রলিপ্ত, করতোয়া ও বৈতরণীর উল্লেখ থেকে জানা যায় যে মহাভারতীয় যুগে ময়মনসিংহ জেলাসহ বঙ্গদেশের প্রায় ৩/৪ অংশ লৌহিত্য সাগরে নিমজ্জিত ছিল। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরাও এর সাথে একমত হয়েছেন; গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মুখানীত কাঁদা হতেই বঙ্গভূমির সৃষ্টি হয় বলে তারা অনুমান করেন। কারণ হিমালয়ের সন্নিহিত অঞ্চলেও অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর কঙ্কাল ও অন্যান্য নিদর্শন পাওয়া গেছে।এর সাথেই ভেসে উঠে বর্তমান ময়মনসিংহ অঞ্চল। এরপর প্রায় ৩০০০ বছর অতিবাহিত হয়, এই সময়ের বর্ণনা পাওয়া যায় পুরাণে। প্রকৃতপক্ষে এই সময়েই লৌহিত্যগর্ভ থেকে বঙ্গদেশ উত্থিত হচ্ছিল এবং সেই সাথে ব্রহ্মপুত্র তীর্থরাজ হিসেবে এই দেশে পূজিত হচ্ছিল।
বৌদ্ধ যুগ
খ্রিস্টীয় অব্দের কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই বলা যায় এই দেশে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করে এবং শাসনকর্তার ভূমিকা পালন করেন বৌদ্ধ রাজারা। এই সময় আনুমানিক ৩০২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নির্দেশে গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আসেন। এই ভ্রমণ নিয়ে তিনি লেখেন ইন্ডিকা নামীয় গ্রন্থটি। এই গ্রন্থের মানচিত্র থেকে জানা যায় তখন ময়মনসিংহ অঞ্চল বিস্তৃত কামরুপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কামরুপের মূল সীমানা ছিল পূর্ববঙ্গসহ উত্তর-পশ্চিমে মিথিলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মগধ পর্যন্ত। খ্রিস্টপূর্ব ২৬০ অব্দে মহারাজ অশোক মগধের সিংহাসনে আরোহন করে ভারতবর্ষের প্রায় সমগ্র অঞ্চল দখল করলেও বঙ্গদেশ দখল করতে পারেননি। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে মগধ রাজ্যের সিংহাসনে আরোহন করেন রাজা সমুদ্রগুপ্ত। এই শতাব্দীর শেষ দিকে কামরুপ তথা সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং সমতট (ঢাকা, ফরিদপুর) মগধের অধীনে আসে।
এরপর ৬২৯ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং ভারতবর্ষে আসেন। হিউয়েন-সাং পুণ্ড্রবর্ধন থেকে একটি বিশাল নদী অতিক্রম করে কামরুপ আসেন। তখন কামরুপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলো ছিল: আসাম, মণিপুর, কাছাড়, ময়মনসিংহ এবং শ্রীহট্ট আর এর শাসনকর্তা ছিলেন কুমার ভাস্কর বর্ম্মণ।[১] হিউয়েন-সাং ‘র বর্ণনা থেকে জানা যায় ব্রহ্মপুত্রের পূর্বে অবস্থিত বর্তমান পূর্ব ময়মনসিংহ ছিল কামরুপের অধীনে আর এই নদের পশ্চিমে অবস্থিত বর্তমান পশ্চিম ময়মনসিংহ ছিল পুণ্ড্রবর্ধনের অধীনে। সপ্তম শতাব্দীতে হিন্দু ধর্মের পুনর্জাগরণের ফলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব মলিন হয়ে যায়। এর মূলে ছিল তন্ত্রাদির আবির্ভাব। এই সময়ের যোগিনীতন্ত্র পাঠ করলে তখনকার সময়ে কামরুপের অবস্থান জানা যায়। তন্ত্রমতে করতোয়া থেকে দ্দিকরবাসিনী পর্যন্ত বিস্তৃত কামরুপের উত্তরে ছিল কঞ্জগিরি, পশ্চিমে করতোয়া, পূর্বে দিক্ষু নদী এবং দক্ষিণে লাক্ষ্ণা নদী। ৮ম শতাব্দী থেকে ১০ম শতাব্দী পর্যন্ত ময়মনসিংহের যে অংশ ৭ম শতাব্দীতে পুণ্ড্রবর্ধনের অধীন ছিল তা আবার কামরুপের অধীনে আসে।
হিন্দু শাসনামল
পাল বংশ
৭৫৬ সাল থেকে ১১৬২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বছর পাল রাজবংশ বঙ্গ ও বিহার শাসন করে। তন্মধ্যে প্রথম ১২০ বছর অধিক গুরুত্বপূর্ণ; এই সময় ময়মনসিংহের কাপাসিয়া, রায়পুরা ও ধামরাই নামক অঞ্চলে শিশুপাল, হরিশ্চন্দ্র পাল এবং যশোপাল নামক তিনজন ক্ষুদ্র নৃপতি শাসন করেন। এছাড়া পশ্চিমাংশে মধুপুর অঞ্চল শাসন করেন পালরাজ ভগদত্ত (ইনি মহাভারতে উল্লেখিত ভগদত্ত নন)। ভাওয়ালের বনের গভীরে শিশুপালের বিশাল দীর্ঘ রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ এখনও অস্তিত্বশীল। মধুপুরেও মহারাজ ভগদত্তের স্মৃতিচিহ্ন অবশিষ্ট আছে: তার গৃহভগ্নাবশেষ, পুকুর, বারতীর্থ দীঘি, দেবালয় এবং মদন গোপালের বাড়ি। এখনও এই বারতীর্থাশ্রমে মেলা ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সেন বংশ
দশম শতাব্দীতে পাল বংশের রাজত্ব যখন চলছে তখনই সেন বংশের উত্থান ঘটে। এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন বীরসেন বা আদিশূর। তিনি বিক্রমপুরে (বর্তমান রামপাল) রাজধানী স্থাপন করে সমতট এবং দক্ষিণ বঙ্গ শাসন করেন। তার প্রপৌত্র বিজয়সেন এতদ্ব্যতীত মদ্র, কলিঙ্গ, কামরুপ দখল করেন। তাই সে সময় ময়মনসিংহ বিজয়সেনের অধীনে ছিল; আর এখানকার ক্ষুদ্র পাল নৃপতি শাসিত অঞ্চলগুলো প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। বিজয়সেনের পর তার পুত্র বল্লালসেন (১১৬০ – ১১৭৮) রামপালের সিংহাসনে সমাসীন হয়ে বঙ্গকে ৫ ভাগে ভাগ করেন: রাঢ়, বাগড়ি, বারেন্দ্র, মিথিলা এবং বঙ্গ। এই ভাগ থেকে জানা যায় তখন পশ্চিম ময়মনসিংহ বঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সেন রাজা কর্তৃক শাসিত হচ্ছিল। আর পূর্ব ময়মনসিংহ (ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব পার) কামরুপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে দুইটি সন্দেহের অবকাশ রয়েছে:
ঐতিহাসিক হ্যামিল্টনের মতে বঙ্গের সীমানা উপর্যুক্ত বর্ণনার মত হলেও অনেক ঐতিহাসিক তা স্বীকার করেন না।
ময়মনসিংহের যে অংশ কামরুপের অধীন বলা হয়েছে তাও অনেকের মতে বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রথম সন্দেহের ক্ষেত্রে বলতে হয়, প্রত্নতত্ত্ববিদ কৈলাশচন্দ্র সিংহ হ্যামিল্টনের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষন করেন। তার এই মতের সাথে ব্লকম্যানের মতের মিল রয়েছে। তবে সকল দিক বিবেচনায় হ্যামিল্টনের মতই অধিক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। দ্বিতীয়ত সন্দেহর নিরসন হয়েছে বল্লালসেনের অসবর্ণা স্ত্রী গ্রহণ এবং পূর্ব ময়মনসিংহে মানব বসতি স্থাপনের সূচনার কাহিনী থেকে। আনন্দভট্ট রচিত বল্লালচরিত গ্রন্থে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এই মতে, বল্লালসেন ক্ষমতা দখল করে কৌলিন্য প্রথা প্রচলন করেন। এতে প্রাচীন বাহ্মণ, কায়স্থ এবং বৈদ্যদের মধ্যে বিপ্লবের সৃষ্টি হয়। এমন সময় তিনি নিজ বর্ণের ভিন্ন বর্ণের (ডোম) এক নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং এই নারীর অন্ন গ্রহণে সকলকে বাধ্য করেন। এতে জাত রক্ষার তাগীদে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার বঙ্গ ত্যাগ করে ব্রহ্মপুত্রের অপর পারে চট্টগ্রাম, শ্রীহট্ট, পূর্ব ময়মনসিংহ এবং ত্রিপুরায় বসতি স্থাপন করে। এভাবে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বে এদের বিচরণ শুরু হয়। তাই বলা যায়, বল্লাসেনের কালে পূর্ব ময়মনসিংহ কামরুপেরই অধীনে ছিল। এই ব্যাপারে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, এই স্থানান্তরের সময় দত্তবংশের আদিপুরুষ অনন্ত দত্ত বঙ্গ ছেড়ে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ মহকুমার কস্তল গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাদের বংশের এক প্রাচীন কুর্চিনামায় প্রাপ্ত শ্লোকে লেখা আছে, “১০৬১ সনে শ্রীমান অনন্ত দত্ত বল্লাল ভয়ে নিজগুরু শ্রীকণ্ঠ দ্বিজসহ বঙ্গ পরিত্যাগ করিলেন”। তাই এখানে কেবল পশ্চিম ময়মনসিংহের ইতিহাস সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া যায়, কারণ বঙ্গের অধীনে এই অংশটিই ছিল। তবে পূর্ব ময়মনসিংহের ইতিহাস জানতে হলে কামরুপের ইতিহাস জ্ঞাত হওয়া আবশ্যক।
কামরুপের ইতিহাস
মূল নিবন্ধ: কামরুপের ইতিহাস
প্রাচীন কাল থেকে ভূঞা শাসন
রামায়ণ ও মহাভারতের সময় কামরুপ প্রাগ্‌জ্যোতিষ দেশ নামে পরিচিত। এই রাজ্যের রাজধানী ছিল প্রাগ্‌জ্যোতিষপুর যা বর্তমানে গৌহাটি নামে পরিচিত। খ্রি. পূ, সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত এখানে ভগদত্ত বংশ রাজত্ব করে। এর পর ক্ষত্রিয় ও ব্রহ্মপুত্র বংশের রাজত্ব চলে। হিউয়েন সাঙ-এর ভ্রমণের সময় রাজত্ব করছিলেন নারায়ণ বংশীয় রাজা ভাস্করবর্ম। তার পরে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন কলিন্দ বর্ম্মা। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চলের শাসনকর্তা হিসেবে বার ভূঞাদের আবির্ভাব হয়। ভূঞাদের অধীনে কামরুপ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এই সুযোগে পূর্ব ময়মনসিংহে কয়েকটি ক্ষুদ্র রাজ্য সৃষ্টি হয় যেগুলো গারো, কচ্চু প্রভৃতি আদিবাসী দ্বারা শাসিত হতো। এরা কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ি, নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মদনপুর ও সুসঙ্গ, সদরের বোকাইনগর এবং জামালপুরের গড়দলিপায় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলো। এটি বল্লা সেনের সমসাময়িক কালের অবস্থা। এই সময়ই অনন্ত দত্ত তার গুরু শ্রীকণ্ঠ দ্বিজ সহ কামরুপে আসেন। এরাই ছিলেন পূর্ব ময়মনসিংহের প্রথম ভদ্র উপনিবেশ। দ্বাদশ শতাব্দী থেকে এই অঞ্চলের কামরুপের প্রভাব কমতে শুরু করে।
আদিবাসী গারো জাতির শাসন উৎখাত
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তর ভাগে তথা সুসঙ্গ পাহাড়িয়া অঞ্চলে বৈশ্যা মান্দা নামক একজন গারো রাজত্ব করছিলো। সোমেশ্বর পাঠক নামীয় পরাক্রান্ত ভ্রমনকারী এই বৈশ্যা মান্দাকে সূকোঁশলে পরাজিত করে সুসঙ্গের শাসন অধিকার করেন। তিনি কান্যকুব্জ থেকে পূর্ব বঙ্গে এসেছিলেন ১২৮০ সালে। এই ঘটনাগুলো থেকে জানা যায় যে দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীতেই পূর্ব ময়মনসসিংহে আদিবাসীদের শাসনের অবসান ঘটে।
ভাটী রাজ্য
ভাটী ছিল কামরুপের রাজধানী। চতুর্দশ শতাব্দীতে এই রাজধানী ক্ষত্রিয় সন্ন্যাসী জিতারী কর্তৃক অধিকৃত হয়।মুসলিম ঐতিহাসিকগণ মেঘনা নদীর পশ্চিম তট-ভূমিকে ভাটী বলে নির্দেশ করেছেন।[২] আবার অনেক প্রাচীন লিখনে ময়মনসিংহের পূর্ব প্রান্তের খালিয়াজুরিকে ভাটী নামে অভিহিত করা হয়েছে। জানা যায় কয়েক শতাব্দী পূর্বে লম্বোদর নামক ক্ষত্রিয় সন্ন্যাসী এদেশে এসে ভাটীর শাসন অধিকার করেন। এই সন্ন্যাসীর বংশ এখনও বর্তমান আছে। এই বংশের পূর্বপুরুষেরা দিল্লীশ্বর বাদশাহ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ভাটী মুল্লুকের পাঞ্জাফরমান পেয়েছিলেন। এতে মনে হয় আসলেই তারা এই অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। সুতরাং এই সময় থেকে পূর্ব ময়মনসিংহের পূর্বভাগের সাথেও কামরুপের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় কারণ ভাটী পূর্ব অংশে ছিল। কিন্তু তখনও জঙ্গলবাড়ি, বোকাইনগর, মদনপুর, গড়দলিপা প্রভৃতি স্থান হাজংদের দ্বারা শাসিত হচ্ছিলো। তখনও মুসলিম অধিবাসীরা পূর্ব ময়মনসিংহে প্রবেশ করে নি।
প্রাথমিক মুসলিম শাসন
বাঙ্গালার শেষ হিন্দু রাজা বল্লাল সেনের পুত্র লক্ষ্ণণ সেনের রাজত্বের শেষ দিকে এ অঞ্চলে অভ্যন্তরীন কোন্দল দেখা দেয়। ১২০৪ সালে মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করেন। লক্ষ্ণণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। তিনি প্রতিরোধ না করে তক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে আসে।[৩] বখতিয়ার তার সম্রাজ্যকে দুইটি অংশে ভাগ করেন: মিথিলা এবং রাঢ়ের রাজধানী লক্ষ্ণণাবতীতে (গৌড়) স্থাপিত হয় যা মুসলিম ইতিহাসে লখনৌতি নামে পরিচিত; অপর অংশ গঠিত হয় আরও পূর্বদিকে উত্তর বঙ্গ বা বরেন্দ্র অঞ্চল। তার রাজত্বের সীমানা উল্লেখ করা হয়: পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী; দক্ষিণে পদ্মা নদী; উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর পর্যন্ত এবং পশ্চিমে বিহার পর্যন্ত যা বখতিয়ার আগেই অধিকার করেছিলেন। এ হিসেবে দেখা যায় পূর্ব বঙ্গ বখতিয়ারের অধীনে আসেনি, অতএব ময়মনসিংহের (তথা কামরুপের) কোন অংশই নয়। তবে বখতিয়ার কামরুপে অভিযানে বের হয়েছিলন। কিন্তু বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদীর কারণে আর এগোতে পারেননি।[৪]
উজবেকের আক্রমণ ও তুগরল খাঁ’র বিদ্রোহ
বখতিয়ারের মৃত্যুর পর ১২৫৭ সালে[৫] ইখতিয়ার উদ্দিন উজবেক রাঙামাটির দিক থেকে কামরুপ আক্রমণ করেন। এতে কামরুপের রাজা পালিয়ে যায়; এ সুযোগে গারো পর্বতের দক্ষিণ ভাগের সুসঙ্গ, মদনপুর, বোকাইনগর, গড়দলিপা, ভাটী, জঙ্গলবাড়ি প্রভৃতি স্থানে স্বাধীন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই গোলযোগের সুযোগ নিয়ে তিনি কামরুপের রাজধানী পর্যন্ত অধিকার করেন। কিন্তু বর্ষা আরম্ভ হওয়ার পর কামরুপের প্রাক্তন রাজা আবার আক্রমণ করে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন, উজবেক এই যুদ্ধে (১২৫৭ সালের জুলাই মাসে) মারা যান। পুনরায় ক্ষমতা পেলেও কামরুপরাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোতে আবার শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। এ সময় পূর্ব ময়মনসিংহে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজা স্বাধীনভাবে শাসন করছিল আর পশ্চিম ময়মনসিংহে সেন রাজবংশ তখনও স্বাধীন হিন্দু রাজ্যের অস্তিত্ব ঘোষণা করছিল।[৬]
১২৭৯ সালে বাংলার শাসনকর্তা তুগরল খাঁ দিল্লীশ্বরের অধীনতা অস্বীকার করে স্বাধীন রাজ্য ঘোষণা করেন। এতে দিল্লীশ্বর গিয়াস উদ্দিন বলবন তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তুগরল পলায়ন করলে বলবন তার পশ্চাদ্বাধন করেন, এভাবেই বলবন সোনারগাঁয়ে উপনীত হন। তখন সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা ছিলেন দনুজ রায়। দনুজ রায়ের সাথে বলবনের সন্ধি চুক্তি হয়। এই চুক্তির কথা জানতে পেরে তুগরল উড়িষ্যার পথে পালিয়ে যান কিন্তু পথে বলবনের সৈন্যের হাতেই মারা যান। ডাক্তার ফ্রান্সিস বুকানন, ডাক্তার ওয়াইজ, হেনরি ফার্ডিনান্ড ব্লকম্যান প্রমুখের বর্ণনামতে জানা যায়, বখতিয়ার নবদ্বীপ জয় করার পর সেন রাজারা সোনারগাঁয়ে আশ্রয় নেন, এখানে দেই-এক পুরুষ রাজত্ব করার পর দনুজ রায় কর্তৃক বিতাড়িত হন, এরপর পূর্ব রাজধানী রামপালে (বিক্রমপুর) পালিয়ে যান, সেখানে কয়েক বছর রাজত্বের পর মুসলিমদের আক্রমনে পরিজাত হন। গিয়াস উদ্দিন বলবন সুবর্ণগ্রাম (সোনারগাঁ) অদিকার করে তার দ্বিতীয় পুত্র নাসির উদ্দিন মুহাম্মদকে বাংলার শাসনকর্তা হিসেবে রেখে দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেন। বোঝা যায় এ সময়েও ময়মনসিংহ মুসলিম শাসনের অধীনে আসেনি।
বাংলাদেশে স্বাধীন মুসলিম শাসন
গিয়াস উদ্দিনের পর কায়কোবাদ এবং তার পর শাম্‌স উদ্দিন ফিরোজ শাহ দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ফিরোজ শাহ বাংলাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। একটি বিভাগ হয় পূর্ব বঙ্গের যার রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় সোনারগাঁয়ে। পূর্ব বঙ্গের শাসনকর্তা হন বাহাদুর খাঁ, এর পর বহরম খাঁ এবং তার পর ফকির উদ্দিন। ফকির উদ্দিন সিংহাসনে আরোহণ করেই সুলতান সিকান্দার নাম ধারণ করে ১৩৩৮ সালে নিজেকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন। তখন থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ১৭ জন মুসলিম স্বাধীন নরপতি বাংলাদেশ শাসন করেন। কিন্তু তখনও ময়মনসিংহ মুসলিম শাসনাধীনে আসে নি বলে জানা যায়। ঢাকা ছিল বঙ্গে মুসলিম শাসনের শেষ সীমানা। ১৪৯১ সালে দ্বিতীয় ফিরোজ শাহ দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করে ব্রহ্মপুত্র অতিক্রম করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং একাজে তিনি সেনাপতি মজলিস খাঁ হুমায়ুনকে সসৈন্য প্রেরণ করেন। মজলিস খাঁ ময়মনসিংহের উত্ত অংশে প্রবেশ করে শেরপুর প্রদেশ আক্রমণ করেন। তখন শেরপুরের অন্তর্গত গড়দলিপায় দলিপ সামন্ত নামক জনৈক কোচ রাজা শাসন করছিলেন। মজলিসের আক্রমনে দলিপ পরাজিত ও নিহত হন এবং এভাবে শেরপুরে মুসলিম রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল ময়মনসিংহ প্রথম মুসলিম প্রবেশ। মজলিস খাঁর মৃত্যুর পর তার সমাধি গড়দলিপার দূর্গে স্থাপন করা হয়। এই সমাধি গ্রাত্রে আরবি ভাষার একটি লিপি পাওয়া যায় যার অর্থ:

In the name of God, the Merciful, the Clement! There is no God but Allah,- Mahammed is Allah’s prophet, there is no God but Allah, Mahammed is Allah’s prophet. God bless Mahammed, the pure Hasan, Hossain built the king of the age and the period Saifuddunya uddin Abdul Mazaffar Feroz Shah the King, may God perpituate his Kingdom and his rule! This (vault?) was completed in blessed Ramjan 8.[৭]

হুসেন শাহী বংশের রাজত্বকাল
১৪৯৮ সালে হুসেন শাহ বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সময় সমগ্র ময়মনসিংহে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। এ সম্বন্ধে ব্লকম্যানকৃত রিয়াজ-উস-সালাতিনের অনুবাদটিতে কিছু তথ্য আছে:

হুসেন শাহ উড়িষ্যা জয় করে, তার অন্তর্গত রাজাদের নিকট থেকে কর নিলেন ও বাঙ্গালার পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তস্থ আসাম প্রদেশ বিজয়ের লক্ষ্যে বিরাট অভিযান করলেন। তিনি বহু সৈন্য সাথে নিয়ে আসাম রাজ্যে প্রবেশ করেন ও কামতাপুর থেকে কামরুপ পর্যন্ত অধিকার করে অন্যান্য প্রদেশ, যথা- রুপনারায়ণ, মাল (পাল?), কানুয়ার, গশালক্ষ্ণণ, লক্ষ্মিনারায়ণ প্রভৃতি পরাক্রমশালী রাজাদের রাজ্য হস্তগত করেন এবং লুণ্ঠন করে বহু ধনরত্ন সংগ্রহ করেন। রাজারা তাদের উপদ্রবে পাহাড় পর্বতে আশ্রয় গ্রহণ করেন ও মুসলমানরা তাদের রাজ্য অধিকার করে নেন। এভাবে হুসেন শাহ, কামরুপ রাজ্য জয় করে, নিজ পুত্র নসরৎ শাহকে তার শাসনকর্তা রেখে বাঙ্গালায় প্রত্যাবর্তন করেন।

এ বিবরণ থেকে হুসেন শাহ ময়মনসিংহ জয় করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়না। কারণ এখানে উল্লেখিত রাজ্যগুলো কোথায় অবস্থিত তা জানা যায়নি। তবে অন্য আরও প্রমাণ দ্বারা হুসেন শাহের ময়মনসিংহ বিজয় সম্বন্ধে জানা যায়। যেমন, হুসেন শাহ যে অঞ্চল জয় করতেন সেখানেই নিদর্শনস্বরুপ একটি মসজিদ নির্মাণ করতেন। বর্তমান বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত আটীয়া নামক স্থানে হুসেন শাহ নির্মিত একটি মসজিদ ছিল (বর্তমান আতিয়া মসজিদ নয়)। এই মসজিদ-গাত্রের প্রস্তর ফলকে হুসেন শাহের পশ্চিম ময়মনসিংহ বিজয়বার্তা আরবি অক্ষরে খোদাই করা ছিল। অধ্যাপক ব্লকম্যান এর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন:

The prophet may God’s blessing rest on him!- says “He who builds a mosque for God, will have a house like it built for him by God in paradise.” This jami Mosjid was built by the great and respected king Alaudunya waddin Abbul Muzuffor Husain Shah, the king son of Sayzid-Ashraf, a descendent of Husain-may God perpituate his rule and his kingdom! Date A.H. 922 (A.D. 1516)[৮]

এছাড়া হুসেন শাহ ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব দিক জয় করে একেবারে ত্রিপুরা পর্যন্ত অধিকার করেন। তিনি খোয়াজ খাঁকে এ অঞ্চলের শাসনকর্তা মনোনীত করেন। খোয়াজ খাঁ ময়মনসিংহের অন্তর্গত মুয়াজ্জামাবাদে থেকে এই যুক্ত প্রদেশ শাসন করতে থাকেন। খোয়াজ খাঁর নামাঙ্কিত একটি প্রস্তর লিপিও আবুষ্কৃত হয়েছে যার অনুবাদ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশ করেছে:

This mosque was built in the reign of the Sultan of the age, the heir of the kingdom of Solomen, Alaudunya waddin Abbul Muzuffor Husain Shah. may God perpituate his kingdom and his rule, and elevate his condition and his dignity, and render, in every minute his proof victorious, by the great and noble Khan, Khawas Khan, Governer of the land of Tiparah and vazir of the district in Muazzamabad,- may God preserve him in both world! Dated 2nd Rabi 11, 919 (7th June, 1513)[৯]

লিপিতে উল্লেখিত এই মুয়াজ্জমাবাদ বর্তমানে আর নেই। ব্লকম্যানও এর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেননি। তিনি একবার একে সোনারগাঁ এবং অন্যবার পূর্ব ময়মনসিংহের অন্তর্গত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে হুসেন শাহ যে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় বঙ্গই দখল করেছিলেন তা এ থেকে সুস্পষ্ট। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার হুসেনশাহী পরগণা এবং হুসেনপুর নামক স্থান হুসেন শাহের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। হেনরি টমাস কোলব্রুক এবং হেনরি ফ্রার্ডিনান্ড ব্লকম্যান বঙ্গে যে দশটি টাকশালের কথা উল্লেখ করেছেন তার একটি ছিল মুয়াজ্জামাবাদ। এ থেকে বোঝা যায় তৎকালীন বঙ্গ এই কয়টি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, আর তখন পূর্ব ময়মনসিংহ মুয়াজ্জামাবাদ নামে পরিচিত ছিল। মুয়াজ্জামাবাদের সঠিক সীমানা জানা না গেলেও এটুকু জানা যায় যে তা পূর্বদিকে শ্রীহট্টের লাউর প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
তথ্যসূত্র এবং পাদটীকা
↑ প্রত্নতত্ত্ববিদ শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র দত্তের মতে
↑ Mahamedan Historians call the coast strip from the Hugly of the Megna “Bhati”. H. Blochmann’s History & Geography of Bengal. কেদারনাথের ময়মনসিংহের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত
↑ বাংলাদেশের ইতিহাস: ড. মুহাম্মদ আবদুর রহিম, ড. আবদুল মমিন চৌধুরী, ড. এ. বি. এম. মাহমুদ, ড. সিরাজুল ইসলাম, নওরোজ কিতাবিস্তান প্রকাশিত ষষ্ঠ সংস্করণ (মে, ১৯৯৭); পৃ. ১১৪
↑ বাংলাদেশের ইতিহাস: ড. মুহাম্মদ আবদুর রহিম, ড. আবদুল মমিন চৌধুরী, ড. এ. বি. এম. মাহমুদ, ড. সিরাজুল ইসলাম, নওরোজ কিতাবিস্তান প্রকাশিত ষষ্ঠ সংস্করণ (মে, ১৯৯৭); পৃ. ১১৪
↑ বাংলাদেশের ইতিহাস: ড. মুহাম্মদ আবদুর রহিম, ড. আবদুল মমিন চৌধুরী, ড. এ. বি. এম. মাহমুদ, ড. সিরাজুল ইসলাম, নওরোজ কিতাবিস্তান প্রকাশিত ষষ্ঠ সংস্করণ (মে, ১৯৯৭); পৃ. ১৫৮
↑ ময়মনসিংহের ইতিহাস: শ্রীকেদারনাথ মজুমদার; আনন্দধারা কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ (ফেব্রুয়ারি ২০০৫); পৃ. ২৫
↑ শেরপুরের হরচন্দ্র চৌধুরী এই প্রস্তরলিপি পেয়ে ১২৭১ বঙ্গাব্দে তা এশিয়াটিক সোসাইটিকে প্রদান করেন। ১৮৭৪ সালে এশিয়াটিক জার্নালের অধ্যাপক ব্লকম্যান হরচন্দ্র বাবুর বিবরণসহ তাকে প্রচুর ধন্যবাদ প্রদানপূর্বক তার প্রেরিত প্রস্তরলিপির এই অনুবাদ প্রকাশ করেন। কিছু স্থানে অক্ষর অস্পষ্ট থাকায় পূর্ণ অনুবাদ সম্ভব হয়নি।
↑ Notes on Arabic and Persian Inscriptures (J.A.S.B)
↑ On a new King of Bengal (J.A.S.B. 1872)
আরও দেখুন
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ
কেদারনাথ মজুমদার
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3452#sthash.B1TgZgCK.dpuf

বৃহত্তর ময়মনসিংহে কাঠালের বাম্পার ফলন, দাম কম

মনোনেশ দাস : চলতি মৌসুমে ময়মনসিংহে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাইকাররা কাঁঠালের দাম কমিয়ে দেয়ায় চাষীরা গরু- ছাগলকে খাওয়াচ্ছে।একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছে ৫০০ থেকে ১৫০০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাজারে প্রকার ভেদে ২০ টাকা থেকে ৩০/৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায় , খাদ্যমানে কাঁচা ঁকাঠাল, মোচা, বীজ সবই উত্তমখাবার। এতে রয়েছে শ্বেতসার , আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। কাঁঠাল ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় এলাকায় ভাল ফলে, ঊষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া কা্ঠাঁল চাষের জন্য উপযোগী । খুববেশী খরা এবং ঠান্ডা কাঁঠালের জন্য ক্ষতিকর। ময়মনসিংহ কাঁঠাল চাষের জন্য বিখ্যাত স্থান। কৃষি বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায় , বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে কাঁঠালের বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। তবে কলম পদ্ধতিতেও এর চাষ করা যায়। বৈশাখ – জৈষ্ঠ মাস চারা লাগাবার উপযুক্ত সময়। চারা লাগাবার আগে ১০/১২ মিটার দূরত্বে ৯০ মিটার গভীর ও চওড়া গর্ত করে পরিমানমত জৈব সার , টিএসপি ও ছাই মিশিয়ে ১২/১৫ দিন পর চারা লাগাতে হয়। এক বছর বয়স্ক গাছে ১০ কেজি জৈব, ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া,২০০গ্রাম টি-এস-পি এবং ২৫০ গ্রাম এম-পি সার প্রয়োগ করতে হয়। জমি সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হয়।সবুজ সার প্রয়োগ করলে ভাল হয়।১০/১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হয়। কাঁঠাল গাছে সাধারনতঃ ডলি ও ফল ছিদ্রকারী পোকার উপদ্রব দেখা যায়। আক্রান্ত গাছ ডাইমেক্রোন , রক্সিয়ন , সেভিন আথবা একই ধরনের ওষুধ দিয়ে ¯েপ্র করে সুফল পাওয়া যায় । মিলিবাগ নামক সাদাটে চ্যাপ্টা পাখা বিহীন এক ধরনের পোকার উপদ্রব কাঁঠাল গাছে দেখা যায় । এ পোকা কচি ডাল ও ফল থেকে রস চুষে খায় , তাতে ফুল ঝরে পড়ে। প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০/১৫ মিলিলিটার,নোভাক্রোন , ডায়াজিনন এবং ফল পচা রোগে ডাইথেন ¯েপ্র করলে সুফল পাওয়া যায়। গোলাপী রোগের আক্রমনে কচি পাতার তলায় গোলাপী রঙের আবরণ পড়ে তাতে পাতা ঝরে যায় এবং ডগা শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত অংশ ফেলে তাতে কাঁটা অংশ সান্টার নামক ওষুধ লাগানো ভালো চাষীরা জানান , কাঁঠাল সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে । এছাড়া কাঁচা পাকা কাঁঠাল খুব সহজেই দূর-দূরান্তে চালান দেয়া যায়। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3207#sthash.jn2S8dE7.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

যে গাছটিকে ভয় সাপ খোপের চেয়ে কম নয়


মনোনেশ দাস : গ্রাম বাংলার ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় সাপ কোপের চেয়ে কম নয় এর নাম “বিছুটি”। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই গাছটি “চোতরা” নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম লেপোরটিয়া ক্রিনালাটা গেউড। চোতরা মূলত: গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।গ্রাঞ্চলের ঝাড়-জঙ্গলে কয়েক কদম হাঁটলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যাবে।কিন্তু ছোঁয়া লাগলে সর্বনাশ । সারা গায় শুরু হবে চুলকানি।বর্ষায় ভেজা চুতরা পাতার ঘসায় রক্তিম হয়ে যায় ত্বক। আগুনের মত জ্বলে এবং চুলকায়। তিন দিন পর্যন্ত চলতে থাকে যন্ত্রণা।এর কবল থেকে গরু-ছাগল তথা লোম জাতীয় প্রাণীর মুক্তি নেই। অত্রাঞ্চলে চোতরা নিয়ে রযেছে নানা মুকরোচক কথা । শাস্তি হিসেবে চোতরার ডার-পাতা দিয়ে মাঝে মধ্যে চোর পেটাতে দেখা যায়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য চিরজ্ঞীব বনৌষধিতে চোতরার বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন। হৃদরোগ,হাপানি,গেটে বাত,মামস, রক্তপড়া,বুকধরফর,বলাধান এবং কোষ্ঠবদ্ধতায় চোতরা একটি কার্যকর ভেষজ। আসাম অঞ্চলের কোন কোন বৈদ্য এটাকে উন্মাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। আয়ুর্বেদ এবং চরক সংহীরতায় এর ভেষজ গুনের উল্লেখ রয়েছে। লোকালয়ে ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদী জমি তৈরীর ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মত চোতরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে , চোতরা ভেষজ চিকিৎসা ছাড়াও বন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3211#sthash.5I05x3Y3.dpuf

চকিদার ও দফাদার অমানবিক জীবন যার


মনোনেশ দাস : পুলিশ নয়, গ্রাম পুলিশ। বেতন ভাতায় বৈষম্য থাকলেও এদের কাজ প্রায় একটাই।পরিশ্রম চকিদার-দফাদারদেরই বেশী। বাংলাদেশে এখন ৫০ হাজারেরও অধিক গ্রাম পুলিশ বছরের পর বছর ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।সরকার থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি কেউ এদের দিকে সুদৃষ্টিতে তাকায় না । কেউ শোনে না এদের দুঃখের কথা। ময়মনসিংহের গ্রাম পুলিশদের দেখলেই সারা দেশের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। দশটি ইউনিয়নে এদের সংখ্যা শতাধিক । ১ থেকে শুরু করে ৫ বছর পর্যন্ত এদের বেতন-ভাতা বকেয়া। বোনাসও পায়না তারা। এদের বেতনও খুব একটা নয় । টিম লিডার বা দফাদার ১ হাজার ৫০টাকা । সৈনিক বা মহল্লাদার ৮শ”৫০ টাকা। পরিবারের বাজার-সদাই , কাপড়-চোপড়, চিকিৎসা, সন্তানের লেখাপড়া প্রভৃতি ব্যয় নির্বাহ করতে হয় এ বেতন থেকেই। অপরদিকে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ২ থেকে ১০ মাইল পর্যন্ত রাস্তা পায়ে হেটে অথবা অন্য যে কোন উপায়ে থানা কার্যালয়ে হাজিরা দেয়া বাধ্যতামূলক। সরকারীভাবে মুসলমান চকিদারদের ২ ঈদ এবং হিন্দুদের দুর্গাপূজায় সামান্য বোনাস দেয়ার বিধান থাকলেও তারা তা পাচ্ছে না । গ্রাম পুলিশ সোহান, রব্বানী, জগন্নাথ,সজল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫০ ভাগ এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৫০ ভাগ বেতন পরিশোধের সরকারী নির্দেশ থাকলেও চেয়ারম্যানরা এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন । উপরন্তু পান থেকে চুন খসলেই দিতে হয় নানা কৈফিয়ত এমনকি হুমকি- ধমকি খেতে হয় চকিদার দফাদারদের । অন্যদিকে অপরাধিরাও এদেও শত্র“, কারন অপরাধিরা জানে যে, এরাই খবর দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করিয়ে থাকে। নানা রোগ ব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে বেতন না পেয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন এমন চকিদার দফাদারের সংখ্যাও কম নয় । তারা জানান, সরকারের অধিনস্থ আমরা দেশ গড়ার কাজে অন্যান্য বাহিনীর মত সক্রিয় অশংগ্রহন করে থাকি। স্থানীয় আইন শৃংখলা রক্ষা তথা চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস দমন, চোরা চালান রোধ, সমাজ বিরোধী কার্যকলাপছাড়াও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগীতার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। শুধু বেচে থাকার তাগিদে দু বেলা দু মুঠো অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থার লক্ষ্যে তারা সরকারের নিকট দাবী জানান। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3520#sthash.O8HTY9zm.dpuf

বৃহত্তর ময়মনসিংহে চাষীদের অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হওয়ায় অনারসের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে - See more at: http://www.mymensinghbarta.com


মনোনেশ দাস : বৃহত্তর ময়মনসিংহের গড় এলাকার আনারস চাষীদের চাষ পদ্ধতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হওয়ায়, অনারসের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে । গত ৩/৪ বছর যাবৎ নতুন নতুন বাগান স্থাপন করা হয়েছে । রোগ ও পোকার উপদ্রব কম থাকায় প্রতি বছরই কৃষকরা আনারস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। চলতি মৌসুমে ৫শহস্রাধিক হেক্টরে আনারস আবাদ করা হয়েছে । বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধুপুর , মুক্তাগাছা, ভালুকা, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় হেক্টর প্রতি ৭০/৮০ থেকে ১শ”টন পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন কৃষক। বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধুপুর , মুক্তাগাছা, ভালুকা, ফুলবাড়িয়া সরেজমিনে কাঠগোলা ,দাওগাও,রামাকানা,রসুলপুর,কমলাপুর প্রভৃতি অঞ্চলের বিভিন্ন আনারস বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানে পরিপুষ্ট ফল । চাষীরা জানান ,আড়াআড়ি ভাবে সারি করে কোদাল দিয়ে জমি হালকা ভাবে তৈরী করে ,বগাকার,আয়তাকার ও কুইন্সাল পদ্ধতিতে আনারস চারা লাগানো হয়েছে । চুন,ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় সার প্রয়োগ করা হয়েছে। গোবর,টিএসপি জমি তৈরি কালে এবং ইউরিয়া ও মিউরেট অব পটাশ সার ফুল আাসার আগে প্রয়োগকরা হয়েছে । আনারস গাছ করা রোদ সহ্য করতে লেবু,নারিকেল,সুপারী,কাজু বাদাম ও পেপে ইত্যাদি ফল বাগানে হালকা ছায়ায় আনারস ফলানো হয়েছে ।ফুল নিয়ন্ত্রন ওফলের আকার বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়েছে। মিলিবাগ পোকার উপদ্রবে সুমিথিয়ন,প্যরাথিয়ন ঔষুধ দিয়ে ¯েপ্র করা হয়েছে। জানা যায়,কলার ন্যায় আনারস গাছে ফল দেয়ার পর প্রধান গাছটি মরে যায়(ঔষধী উদ্ভিদ)এবং সে গাছের কান্ড থেকে আবার নতুন চারা গজায়। মুক্তাগাছা কৃষি অফিস সূত্র জনায় , মুক্তাগাছার গড় অঞ্চলের মাটি আনারস চাষের জন্য উপযোগী । চলতি মৌসুমে ৫শতাধিক হেক্টরে কুইন,কায়েন ও স্পেনিশ জাতের আনারস চাষ করা হয়েছে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3544#sthash.msHf9vfx.dpuf

বৃহত্তর ময়মনসিংহে অন্ত্যজ শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে


1মনোনেশ দাস : বৃহত্তর ময়মনসিংহের সামাজিক সাংস্কৃতিক বেষ্টনির মধ্যে বিভিন্ন পরিচয়, পেশা ওভাষাভাষী অন্ত্যজ শ্রেণীর অবস্থানটি লক্ষ্য করার মত। এ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর , টাঙ্গাইলে এদের সংখ্যা ১০শহস্রাধিক। ভিন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ভাষাভাষী এই জনগোষ্ঠিীর সমাগমের পেছনে লুকিয়ে আছে নানা কৌতুহল উদ্দীপক প্রেক্ষিত। জমিদারী শাসনামলে জমিদারগণ তাদের প্রয়োজনে দক্ষ শ্রমিক, কুশলী শিল্পী, পাহারাদার, সুইপার, মালী প্রভৃতি শ্রেণীর প্রচুর লোক নিয়ে আসে উত্তরভারত ও মধ্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। প্রাথমিকভাবে এদের মধ্যে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈশ্যাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেলেও সমায়ন্তরে তার সমাধানও রচিত হয়েছে। এখানে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে(এখানে কাজের নিশ্চয়তা, অধিকতর সন্মানী, নানানবিধ আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, সর্বোপরী জমিদারদের দীর্ঘমেয়াদী কাজ কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়া) এইসব বহিরাগত এদের অধিকাংশই মূল ভূখন্ডে ফিরে না গিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং স্থানীয় সমাজ ওসংস্কৃতিতে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে পেরেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বিহার থেকে আগত বিহারী, রাজস্থানের মাড়োয়ারী, উড়িস্যার উড়িয়া এবং মধ্যভারতের বিহিকা, লাকড়িগাও, কাটিয়া ভগবানপুর প্রভৃতি অঞ্চলের হড়িজন ও ঋষিসম্প্রদায়ের লোক। এদের ধর্ম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবন, ভাষারূপ আলাদা হলেও কখনো পারস্পরিক সংঘাত বাধে না। এদের নিজস্ব ভাষা পারিবারিক জীবনে ব্যবহার করতে পারলেও তারা আর কোথাও ব্যবহার করতে পারে না। বাইরে এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ভাষারূপটিও বর্তমানে তাদের পূর্ব পূরুষদের মতো নেই। গবেষকরা জানান, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে এদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হতে চলেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহে অন্ত্যজ শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে


1মনোনেশ দাস : বৃহত্তর ময়মনসিংহের সামাজিক সাংস্কৃতিক বেষ্টনির মধ্যে বিভিন্ন পরিচয়, পেশা ওভাষাভাষী অন্ত্যজ শ্রেণীর অবস্থানটি লক্ষ্য করার মত। এ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর , টাঙ্গাইলে এদের সংখ্যা ১০শহস্রাধিক। ভিন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ভাষাভাষী এই জনগোষ্ঠিীর সমাগমের পেছনে লুকিয়ে আছে নানা কৌতুহল উদ্দীপক প্রেক্ষিত। জমিদারী শাসনামলে জমিদারগণ তাদের প্রয়োজনে দক্ষ শ্রমিক, কুশলী শিল্পী, পাহারাদার, সুইপার, মালী প্রভৃতি শ্রেণীর প্রচুর লোক নিয়ে আসে উত্তরভারত ও মধ্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। প্রাথমিকভাবে এদের মধ্যে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈশ্যাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেলেও সমায়ন্তরে তার সমাধানও রচিত হয়েছে। এখানে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে(এখানে কাজের নিশ্চয়তা, অধিকতর সন্মানী, নানানবিধ আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, সর্বোপরী জমিদারদের দীর্ঘমেয়াদী কাজ কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়া) এইসব বহিরাগত এদের অধিকাংশই মূল ভূখন্ডে ফিরে না গিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং স্থানীয় সমাজ ওসংস্কৃতিতে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে পেরেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বিহার থেকে আগত বিহারী, রাজস্থানের মাড়োয়ারী, উড়িস্যার উড়িয়া এবং মধ্যভারতের বিহিকা, লাকড়িগাও, কাটিয়া ভগবানপুর প্রভৃতি অঞ্চলের হড়িজন ও ঋষিসম্প্রদায়ের লোক। এদের ধর্ম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবন, ভাষারূপ আলাদা হলেও কখনো পারস্পরিক সংঘাত বাধে না। এদের নিজস্ব ভাষা পারিবারিক জীবনে ব্যবহার করতে পারলেও তারা আর কোথাও ব্যবহার করতে পারে না। বাইরে এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ভাষারূপটিও বর্তমানে তাদের পূর্ব পূরুষদের মতো নেই। গবেষকরা জানান, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে এদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হতে চলেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহে অন্ত্যজ শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে


1মনোনেশ দাস : বৃহত্তর ময়মনসিংহের সামাজিক সাংস্কৃতিক বেষ্টনির মধ্যে বিভিন্ন পরিচয়, পেশা ওভাষাভাষী অন্ত্যজ শ্রেণীর অবস্থানটি লক্ষ্য করার মত। এ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর , টাঙ্গাইলে এদের সংখ্যা ১০শহস্রাধিক। ভিন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ভাষাভাষী এই জনগোষ্ঠিীর সমাগমের পেছনে লুকিয়ে আছে নানা কৌতুহল উদ্দীপক প্রেক্ষিত। জমিদারী শাসনামলে জমিদারগণ তাদের প্রয়োজনে দক্ষ শ্রমিক, কুশলী শিল্পী, পাহারাদার, সুইপার, মালী প্রভৃতি শ্রেণীর প্রচুর লোক নিয়ে আসে উত্তরভারত ও মধ্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। প্রাথমিকভাবে এদের মধ্যে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈশ্যাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেলেও সমায়ন্তরে তার সমাধানও রচিত হয়েছে। এখানে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে(এখানে কাজের নিশ্চয়তা, অধিকতর সন্মানী, নানানবিধ আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, সর্বোপরী জমিদারদের দীর্ঘমেয়াদী কাজ কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়া) এইসব বহিরাগত এদের অধিকাংশই মূল ভূখন্ডে ফিরে না গিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং স্থানীয় সমাজ ওসংস্কৃতিতে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে পেরেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বিহার থেকে আগত বিহারী, রাজস্থানের মাড়োয়ারী, উড়িস্যার উড়িয়া এবং মধ্যভারতের বিহিকা, লাকড়িগাও, কাটিয়া ভগবানপুর প্রভৃতি অঞ্চলের হড়িজন ও ঋষিসম্প্রদায়ের লোক। এদের ধর্ম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবন, ভাষারূপ আলাদা হলেও কখনো পারস্পরিক সংঘাত বাধে না। এদের নিজস্ব ভাষা পারিবারিক জীবনে ব্যবহার করতে পারলেও তারা আর কোথাও ব্যবহার করতে পারে না। বাইরে এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ভাষারূপটিও বর্তমানে তাদের পূর্ব পূরুষদের মতো নেই। গবেষকরা জানান, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে এদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হতে চলেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহে বিনা চাষের খেসারী এখন আমদানী নির্ভর


মনোনেশ দাস : বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ সারা বাংলাদেশে এক সময় খেসারী প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে গন্য হতো । ভাতের পাশাপাশি খেসারীও গ্রাম বাংলার হত দরিদ্র মানুষের খাবার হিসেবে বিবেচিত হতো । কয়েক দশক আগেও মাঘ-ফাল্গুনের ধুঁ ধুঁ মাঠ খেসারীর সবুজে একাকার হয়ে থাকতো। খেসারী কালাইয়ের পরিপুষ্ট সীম শিশুরা আগুনে ঝলসিয়ে খোলা মাঠে বনভোজন খেতো । চৈত্রের ফসল কাটার সময় কৃষকের আঙ্গিনা ভরে উঠতো খেসারী দানা আর খরকুটায়। গরুর পুষ্টিকর খাবার হিসাবে এই খরকুটা সারা বছর ব্যবহৃত হতো। বৃহত্তর ,ময়মনসিংহ ছিল খেসারী চাষের উল্লেখযোগ্য অঞ্চল । হাওর ও চরাঞ্চলে বর্ষা শেষে বন্যার পানি নেমে গেলে কাদাময় মাঠে বিনা চাষেই বুনে দেয়া হতো খেসারী। বন্যা প্লাবিত ঊর্বর মাটিতে ফলত পর্যাপ্ত খেসারী । খেসারী থেকে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুত হতো বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থের বাড়িতে। এর মধ্যে কাচা কলাইয়ের পিঠা অন্যতম। খেসারীর পায়েস লাল চিনি আর গাভীর দুধে রান্না হতো যা ছিল সবার প্রিয়। খেসারীর ছাতু ভাতের বিকল্প হিসেবে গন্য হতো । বৈশাখের মেলার ঋতুতে বিভিন্ন মেলায় খেসারীর ভাজা কলাই (ফাটা কলাই) খেসারীর খোরমা , খাজা ইত্যদি পাওয়া যেতো । এখন আর খেসারীর সে কদর নেই। এর প্রধান কারন দুর্নাম । এর ডাল খেলে লেথারিজম নামক রোগ হয়। বিশেষজ্ঞ মহলের এ ধরনের অভিমত প্রদানের পরই খেসারী লোপ পেতে থাকে। এখনও কিছু অঞ্চলে খেসারীর চাষ হয় যা অতি নগন্য। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে লাখ লাখ টন খেসারীর ডাল আমদানী করতে হচ্ছ্।ে খেসারী ডালের পিঁয়াজু এখনও সবার প্রিয় খাবার । পরিবেশবাদী বিজ্ঞানীদের গ্রীণ হাউজ এফেক্ট নিয়ে চিন্তা- ভাবনায় আগামী বিশ্বে যে ধরনের চাষাবাদের স্বপ্ন দেখছেন তার মধ্যে ধানকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিনা চাষে যেসব ফসল ফলানো সম্ভব সেগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। অথচ বিনা চাষের ফসল খেসারীর চাষ ইতিমধ্যেই এদেশে ত্যাগ করা হয়েছে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3552#sthash.Gw0tboWH.dpuf

ময়মনসিংহের শালবনে পরিবেশের দ্রুত ভারসাম্যহীনতা


মনোনেশ দাস :ময়মনসিংহের শালবনে ভূত্বক গঠন ও পরিবেশের প্রতি তোয়াক্কা না করে দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে বনায়ন সৃষ্টির কারণে আত্রাঞ্চলে পরিবেশের দ্রুত ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে।বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড়ও হ্রাস পেয়েছে।১৯৯২ সালে যেখানে বর্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় ছিল ২৩৩ মিলিলিটার , সেখানে এখন ১৫০ মিলিলিটার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত দাড়িয়েছে। জানা যায়, ১৯৮৮-৮৯ সাল থেকে ময়মনসিংহ ফরেস্ট এলাকায় সামাজিক বনায়নের নামে দ্রুত বর্ধনশীল ইউকেলিপটাস ও আকাশমণি গাছের উডলট বাগান সৃষ্টি করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট শাল, সেগুন, গজারী, কড়ই প্রভৃতি দেশীয় প্রজাতির গাছগুলো সমূলে ধ্বংস করে উল্লেখিত গাছ রোপণ করা হয়।ফলে গত এক যুগ ধরে এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে।অধিকাংশ ঝোড়ার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।ভূগর্ভস্থ পানি দ্রুত নিন্মাভিমুখী হচ্ছে। বৃষ্টিপাত হ্রাস পেয়েছে।এব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ জানান, হাজার কোটি বছর ধরে আমাদের বনভূমিতে যেসব গাছ-গাছরা জন্মিয়েছে তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে শুধু বিদেশী প্রজাতির গাছ দিয়ে বনায়ন করলে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবাক হবার কিছু নেই।ভূপ্রকৃতির গঠন, মাটি ওজলবায়ুর উপরই নির্ভর করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ ধরনের গাছের জন্ম হয়এবং প্রভৃদ্ধি লাভ করে । শীত প্রধান দেশের গাছ গ্রীষ্ম প্রধান দেশে রোপন দেশে রোপন করে সুফল আশা করা যায় না।সূত্র মতে, আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়ায় বনায়নের নামে শুধু ইউকেলিপ্টাস গাছ রোপনের ফলে সেখানে প্রচন্ড খরা ও পানি সংকট দেখা দিয়েছিল । এব্যাপারে ময়মনসিংহ বন বিভাগ কিছুই জানো বলে জানান। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3901#sthash.Cv3HqzZd.dpuf

মুক্তাগাছা জমিদারের গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছে


১৯৫৫ সালের ১৭ই ডিসেম্বর বাংলা একাডেমীর জন্য একটি গ্রন্থাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘বাংলা একাডেমীর গ্রন্থাগার’ প্রতিষ্ঠার পর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মূল্যবান গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রন্থাগারটি ক্রমশ সমৃদ্ধ করা হতে থাকে। বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য এই গ্রন্থাগারের জন্য অনেক বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবী তখন থেকেই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বহু মূল্যবান গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা দান করেন। এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমীর সাথে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিত হওয়ার পর বহু প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা এবং পঁুথিপত্রসমৃদ্ধ গ্রন্থাগারটি একাডেমীর গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত হয়। উন্নয়ন বোর্ডের গ্রন্থাগারের বিভিন্ন গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা এবং সংগৃহীত হাতে লেখা প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য পঁুথি একাডেমী গ্রন্থাগার ও শহীদুল্লাহ্‌ গবেষণাকক্ষে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তাগাছা জমিদারের গ্রন্থাগারের ১১০০০ দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা সাবেক উন্নয়ন বোর্ড সংগ্রহ করে। মুক্তাগাছা জমিদারের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের সেই সব গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগারকে বহুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়াও বাংলা একাডেমীর গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এনসাইক্লোপেডিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সংস্করণসহ সর্বশেষ সংস্করণসমূহের সংগ্রহে। এছাড়া রিচার্ড এ. বার্টন রচিত ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত এরাবিয়ান নাইটস্‌, রেনেল বেঙ্গল এটলাস ১৭৮৩, বেঙ্গল গভর্ণমেন্ট গেজেট (ইংরেজি-বাংলা) ১৮৫২, লন্ডন ম্যাগাজিন, ১৮৫১ সাল থেকে সংগৃহীত বাংলা পঞ্জিকা ইত্যাদিও বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগারের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ। বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের সাহিত্যিকদের বিভিন্ন গ্রন্থের বিপুল সম্ভারে সমৃদ্ধ। উনিশ শতকের শেষার্ধ ও বিশ শতকের প্রথমার্ধের বিশিষ্ট সাহিত্যিক মুন্সী মেহেরুল্লাহ, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী, মীর মশাররফ হোসেন, মুন্সী রেওয়াজউদ্দিন আহমদ, শেখ ফজলল করিম, মাওলানা আকরম খাঁ, কবি শাহাদাৎ হোসেন, কবি নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখের প্রথম সংস্করণের গ্রন্থগুলো বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। এসব অমূল্য সংগ্রহ গবেষকদের কাজে বিশেষভাবে সহায়ক বিবেচিত হয়েছে। - See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=3953#sthash.l55D5bHT.dpuf