শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩
পাট জাগে বিড়ম্বনা দেখা দেয়াসহ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষ কমেছে
বৃষ্টিপাতের অভাবে কাঁচা পাট জাগে (পানিতে পাট পচানো)সমস্যা দেখা দেয়ায় এবার এর চাষ করেননি। ফলে গতবারের তুলনায় এবার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কম জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
লাভজনক দাম পাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাটোরে পাটের আবাদ বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু গত বছর বৃষ্টির অভাবে পাট জাগে বিড়ম্বনা দেখা দেয়াসহ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষ কমেছে।
জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি থাকায় চাষাবাদ শুরু হয় দেরিতে। তারপর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে কৃষককে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। জলাশয়ের খোঁজে দূরদূরন্তে পাট নিয়ে জাগ দিতে বাড়তি খরচ বহন করতে হয় তাদের। পরে জেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কিছু চাষী পাট জাগ দিয়ে সমস্যা মোকাবেলা করলেও অভ্যস্ত না থাকায় কৃষকের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি প্রক্রিয়াটি। ফলে বেশির ভাগ চাষী ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে পাট জাগ দেয়। এতে এক বিঘা জমির পাট জাগ দিতে বাড়তি খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। তার পরও পাটের রঙ আশানুরূপ না হওয়ায় লাভ হয়নি প্রান্তিক কৃষকদের।
সদর থানার বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার চাষী জয়নাল মণ্ডল জানান, গত বছর বৃষ্টির কারণে পাট জাগে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টি করে স্বল্প পরিসরে পাট জাগ দেয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হয়। তাই সমস্যা এড়াতে গতবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করলেও এবার তিনি করেছেন তিন বিঘায়।
কোনো রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আগামী জুলাই-আগস্টে কৃষকরা মাঠ থেকে পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেবেন। পাটের বীজ বপনের পর জাতভেদে ১০০-১২০ দিন পর পাট গাছ পরিপক্বতা লাভ করে।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছর (জুলাই-জুন) জেলায় ৪ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৪৩ হাজার ২৭ বেল (প্রতি বেল ২০০ কেজি) পাট পাওয়া যায়। গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৯৩ বেল।
২০১০-১১ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৪৯৮ হেক্টর জমি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬২ বেল পাট। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫৬ বেল। ২০১১-১২ অর্থবছর ২১ হাজার ৭৪ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৩ বেল, অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৪২ বেল পাট পাওয়া যায়।
গত বছর নাটোরে ১৬ হাজার ৭৪৫ হেক্টরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বেড়ে ১৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে উন্নীত হয়। এতে গড় ফলন হয় ১১ দশমিক ৭৫ বেল। অর্থাৎ বিগত চার বছরে জেলায় পাট আবাদে জমির পরিমাণ, মোট উৎপাদন ও গড় ফলন বেড়েছে। কিন্তু গতবার বৈরী আবহাওয়ায় পাট জাগে সংকট দেখা দেয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৩৪৫ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
এ বছর দেশী পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫৭ হেক্টরে থাকলেও ৩০০ ও তোষা ১৭ হাজার ৬১৬-এর বিপরীতে হয়েছে ১৬ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও জেলায় জেআরও ৫২৪ ইন্ডিয়া তোষা জাতের পাট চাষের পরিমাণই বেশি।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. রহমত উল্লাহ সরকার বলেন, কাগজ-কল, পারটেক্স শিল্পে পাটের ব্যবহার রয়েছে।
এছাড়া দেশী পাটকল সচলের উদ্যোগ গ্রহণসহ বেসরকারি মালিকানায় স্থাপনও করা হচ্ছে। ফলে ভালো বাজারদর পাওয়ায় প্রতি বছরই নাটোরে পাটের আবাদ বাড়লেও এবার কিছুটা কমেছে।
দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম পাট
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন