কিশোরগঞ্জ:
প্রতিবছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদ জামাতের জন্য সব
ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে
ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
কিশোরগঞ্জ:
প্রতিবছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদ জামাতের জন্য সব
ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে
ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
কিশোরগঞ্জ:
প্রতিবছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদ জামাতের জন্য সব
ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে
ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
কিশোরগঞ্জ:
প্রতিবছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদ জামাতের জন্য সব
ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে
ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpufmymensinghkhobor
কিশোরগঞ্জ:
প্রতিবছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদ জামাতের জন্য সব
ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে
ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
এদিকে ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য থাকছে দু’টি স্পেশাল ট্রেন।
মাঠের আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম ঈদের জামাত। এরই মধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। মাটের দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ সব কাজই শেষ। গতবছর শোলাকিয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছিল। আর লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়, সেই আশায় এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে এই শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’
ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ঈদের আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এবারও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।’
শোলাকিয়া মাঠের অবস্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়রত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও স্যানিটেশনের জায়গা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমাণ প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।
মাঠের নামকরণ
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে
দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সালে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামা থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লেখা আছে। সে হিসাবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬২ বছর।
এছাড়া জানা যায়, ১৮২৮ সাল থেকে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠের ইমাম
১৯৫০ সাল থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হযরতনগর জমিদার বাড়ির দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্ররা শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মো. রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাতনামা আলেমরা ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইমাম নিয়ে বিতর্ক
এবার ইমামতি করছেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শোলাকিয়া মুসল্লি ব্যানারে তাকে ইমামতি পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ করা হয়। মূলত ফরিদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করায় তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় তাকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি করার জন্য মনোনিত করা হয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে।
মুসল্লির সংখ্যা
২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতবেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। গতবছর প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল।
মাঠকে ঘিরে মেলা
জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।
- See more at: http://www.mymensinghbarta.com/?p=4405#sthash.JpVVjKNJ.dpuf
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন